কুকুর আতঙ্কে অতিষ্ট মানিকগঞ্জ পৌরবাসী, হাসপাতালে শতাধিক

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৬, ১৯:৪৭
মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় কুকুর আতঙ্কে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনগণ। দীর্ঘদিন যাবত কর্তৃপক্ষের কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। প্রতিদিনিই প্রায় শতাধীক রোগী কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। বড় মানুষ থেকে শুরু করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে শহরে চলাচল করে। প্রতিদিনিই হাসপাতালে বাড়ছে কুকরে কামড়ে দেওয়া রোগীর সংখ্যা।
 
পৌর এলাকার বাসিন্দা সায়মা আক্তার জানান, আমার সন্তান দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আমার বাসা থেকে স্কুলে যেতে প্রায় ১ কিলোমিটার হাঁটতে হয়। সকালে বেশির ভাগ সময় রিকশা না পেয়ে হেঁটে স্কুলে রওনা হতে হয়। এসময় পথিমধ্যে কয়েক জায়গায় কুকুর অবস্থান করে ।কুকুর বাচ্চাদের দেখলেই কামড় দিতে এগিয়ে আসে। এসময় আমি বাচ্চাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করতে থাকি। 
 
ষাটোর্ধ্ব বয়সের আব্দুল আলিম জানান, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ডায়াবেটিক এর রোগী। এজন্য আমাকে প্রতিদিন সকাল বিকাল দুই ঘণ্টা করে হাঁটতে হয়। ইদানিং শহরে কুকুরের উপদ্রব এত বেড়ে গেছে আমরা বয়স্করা শহরে হাঁটাহাঁটি করতে ভয় পাই। 
 
একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আনিসুল হক জানান, পূর্বে  দুই তিনটি কুকুর একত্রে ঘোরা ফেরা করত কিন্তু ইদানিং বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে প্রায় পনেরো বিশটি কুকুর একসাথে ঘোরাফেরা করে। কখনো চলন্ত মোটরসাইকেলের সামনে এসে কামড় দিতে এগিয়ে আসে। আমি ২ বার মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হই।
 
মানিকগঞ্জ পৌরসভার সেনেট্যারি ইনেসপেক্টর জসিম উদ্দিন জানান, হাইকোর্টের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কুকুর মারতে পারছিনা কিন্তু গত বৎসর প্রয় ২৫ শত কুকুরকে ভেক্সিন দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।IMG0
 
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান মানিকগঞ্জ জেলায় প্রায় ২০১৫-২০১৬ অর্থ বৎসরে পরিসংখ্যান অনুযায়ী বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা ১৩ হাজার ৯’শ ২০টি ও সদরে  ৩০ হাজার ৯৩টি। গত বৎসর রোগ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরদের ভেক্সিন দিয়েছি যা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল মাএ ১০%।
 
মানিকগঞ্জ  সিভিল সার্জন ডা. ইমরান আলী জানান, মানিকগঞ্জ জেলায় প্রয় ১৭ হাজার কুকুর রয়েছে। বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সবচেয়ে ভাল উপায়। আমরা গত বৎসর কুকুরদের ভেক্সিন দিয়েছিলাম কিন্তু এবার ভেক্সিনের কোনো বরাদ্দ পাইনি। প্রতিদিনই জেলা সদর হাসপাতালে প্রায় শতাধিক রোগী কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। তাদের জন্য হাসপাতালে যে পরিমাণ ভেক্সিন প্রয়োজন তার ৩০ শতাংশ আমরা সরকার থেকে বরাদ্দ পেয়ে থাকি। এক্ষেত্রে গরিব রোগীদের বাইরে থেকে ভেক্সিন কিনতে অনেক সময় কষ্ট হয়। 
 
 
 
ইত্তেফাক/এসআইএস/এমআই