ফকিরগঞ্জ বাজারে হাঁটুপানি দুর্ভোগে ক্রেতা-বিক্রেতা

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৬, ০২:১৪
আটোয়ারীর ছয় ইউনিয়নের হাটবাজারগুলো থেকে প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব আয় হলেও ওই সকল হাট-বাজার দীর্ঘদিনেও উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। সংস্কারের অভাবে ও পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় হাট-বাজারগুলো কাদা পানি জমে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
 
সরেজমিন উপজেলার কয়েকটি হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। তবে ফকিরগঞ্জ বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও অপরিকল্পিতভাবে ক্রটিপূর্ণ ড্রেন নির্মাণ করায় সেগুলো পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে কোনো কাজে আসছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই এই বাজারের অলি-গলি ভরে যায় এবং ভিআইপি রোডসহ কোথাও কোথাও হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকে। এতে ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা সাধারণ ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
 
এদিকে অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করায় ড্রেনগুলো আবর্জনায় ভরে থাকে। ফলে ওই সকল ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয় না। এতে জমে থাকা আবর্জনা পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে বাজারের পরিবেশ বিঘ্নিত করছে। এ সব ড্রেনের পচা আবর্জনায় সৃষ্টি হওয়া মশা-মাছি হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারে বসে রোগ-বালাইয়ের জন্ম দিচ্ছে।
 
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ফকিরগঞ্জ বাজারে প্রায় এক হাজারের অধিক ব্যবসায়ী স্থায়ীভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে জীবিকানির্বাহ করে থাকে। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ওই ব্যবসায়ীদের ভাগ্যে নেমে আসে অমাবশ্যার কালো মেঘ।
 
হোটেল ব্যবসায়ী খায়রুল বাশার জানান, প্রতি বছর সরকার এই বাজার থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পেলেও বাজারের উন্নয়ন তথা সংস্কার না হওয়ায় আমরা বর্ষা মৌসুমে ব্যবসা করতে পারি না। বৃষ্টি শুরু হলে দোকানের সামনে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকে। ফলে ক্রেতা সাধারণ আমাদের হোটেলে আসতে পারে না। এ অবস্থায় আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রায় বন্ধ রাখতে হয়।
 
হোটেল ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন হতে ড্রেন সংস্কারের অভাবে মাটি ও ময়লা আবর্জনায় ড্রেন ভর্তি হয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হতে বাজারের দক্ষিণ পাশের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রায় বন্ধ রয়েছে। রাস্তার উপর হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকায় আমাদের ব্যবসা লাঠে উঠার অবস্থা। ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে স্যালোমেশিন বসিয়ে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করছে।
 
ইলেকট্রিক দোকান মালিক রুবেল জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে এভাবে বেশ কয়েকদিন স্যালোমেশিন বসিয়ে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়েছে। অথচ হাট-বাজার থেকে যে রাজস্ব আয় হয়ে থাকে তা থেকে এক-তৃতীয়াংশ হাটবাজারের উন্নয়নের জন্য খরচ করার সরকারি নিয়ম থাকলেও এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের তেমন উদ্যোগ নেই।  এদিকে হাটবাজারগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট জবাইখানা না থাকায় মাংস ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র গবাদি পশু জবাই করছে। ফলে পড়ে থাকা রক্ত ও আবর্জনায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। হাটবাজারগুলোতে স্যানিটেশনেরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। জনসাধারণের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ সহ ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা অপ্রতুল।
 
তোড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী আনছারুল ইসলাম জানান, তোড়িয়া হাটে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ নেই। যেখানে-সেখানে আবর্জনার স্তূপ জমে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
 
পাল্টাপাড়া বাজারের প্রদীপ কুমার জানান, বাজারের মূলভাগে আটোয়ারী-লাহিড়ী রাস্তা। রাস্তার ধারে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাজারের জায়গা বাড়ানো দরকার। কিন্তু এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কারো কোনো উদ্যোগ নেই। উপজেলায় ছয় ইউনিয়নে প্রায় ২০টি ছোট-বড় হাটবাজার হতে সরকার প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও চোখে পড়ার মত উন্নয়ন তথা সংস্কারের উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
 
এদিকে ওই সকল হাটবাজারের প্রায় সাত থেকে আট শতাধিক প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ভাড়া জায়গায় এবং যারা কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয় এমন নেতাগোছের প্রভাবশালী মানুষ হাটবাজারসমূহের সরকারি জায়গা দখল করে দোকান ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
 

ইত্তেফাক/এএন