অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৫৩ ডলার ছাড়াল

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৬, ১২:২৮
 
ওপেক এর তেল উত্তোলন সীমিত করার সিদ্ধান্তে রাশিয়ার সমর্থন জানানোর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গতকাল আড়াই শতাংশ বেড়ে ৫৩ দশমিক ২১ ডলারে উঠেছে। যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিবিসির সংবাদ অনুযায়ী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সেইসাথে তেল সমৃদ্ধ অন্যান্য দেশগুলোকেও একই কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকের তেল উত্তোলন সীমিত করার সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
 
সেপ্টেম্বর মাসে ওপেক ৮ বছর পর জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মধ্যপ্রাচ্যসহ ১৪টি দেশের জোট ওপেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ৭ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। সবমিলিয়ে প্রতিদিন সোয়া তিন কোটি থেকে ৩ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করবে দেশগুলো।
 
২০১৪ সালের জুনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি হয় ১১৫ ডলারে। কিন্তু অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে তা ব্যারেল প্রতি ২৭ ডলারের নিচে নেমে আসে। অন্যদিকে বিশ্বে তেলের চাহিদাও কমে যায়। বিশ্বের দ্বিতীয় বড় অর্থনীতির দেশ চীনের অর্থনীতির গতি মন্থর হয়ে যাওয়া এর একটি বড় কারণ। সেসময় চীনে তেলের চাহিদাও কমে যায়। এ পরস্থিতিতে বেশিরভাগ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমতে থাকে ব্যাপক হারে। নতুন বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকে প্রতিষ্ঠানগুলো। জ্বালানি তেলের দাম কমায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশেগুলোর মধ্যে রাশিয়া অন্যতম।
 
২০১৫ সালে রাশিয়ার অর্থনীতি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ২০০৯ সালের পর এটাই দেশটির সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধস। দেশটির মুদ্রা রুবলের রেকর্ড দর পতন ঘটে। রাশিয়া সরকারের অর্ধেক আয়ের উৎস হলো তেল ও গ্যাস। রাশিয়ার ২০১৬ সালের বাজেট পাস হবার সময় জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে ৫০ ডলার। ইতিমধ্যে দেশটির সরকার ১০ শতাংশ খরচ কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে।