গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত সাইফুর রহমান বাবলু ওরফে দুলাল আহমদের লাশ গ্রহণ করবে না তার পরিবার।
অন্যদিকে ছাতক উপজেলার মনিরজ্ঞাতি-ডিমকা গ্রাম থেকে বুধবার সন্ধ্যায় বাবলুর পিতা মতিউর রহমান ওরফে ময়না শাহকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তিনি থানায় আটক ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইফুর রহমান বাবলু দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মনিরজ্ঞাতি-ডিমকা গ্রামের অতি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। গরু ব্যবসায়ী ময়না শাহ অভাব-অনটনের মাঝে পরিবারের ভরন-পোষণ করে আসছেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে একমাত্র পুত্র বাবলু গোয়াশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করে পীরপুর শুকুরুন নেছা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এখান থেকে এসএসসি পাস করার পর কলেজে ভর্তি হতে বাবলু পাড়ি জমায় সিলেটে। সেখানে রায়নগরে তার এক ফুফুর বাড়িতে থেকে রায়নগর সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ভর্তি হয়। ধারণা করা হচ্ছে- এখান থেকেই বাবলু জঙ্গি তৎপরায় জড়িয়ে পড়ে। ২০১৪ সালে সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য বাবলু চলে যায় রাজধানীতে। মূলত এর পর থেকেই সে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজ ও ঢাকায় থেকে লেখাপড়া করানোর মতো আর্থিক অবস্থা কখনোই ছিল না তার পরিবারের। কিন্তু বাবলুর বিলাসী জীবন ও লেখাপড়া করার মতো অর্থের যোগান কোথায় থেকে আসতো তা তার পরিবারের লোকজন জানতেন না। প্রায় দুই মাস আগে বাড়ির সঙ্গে তার সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই সময় তার বাল্যবন্ধু একই গ্রামের আব্দুস ছালামের পুত্র আব্দুল বাছিতকেও (২৩) সে ঢাকায় নিয়ে যায়। বাবলুর সঙ্গে বাছিতও নিখোঁজ ছিল।
গাজীপুরে নিহত ৭ জঙ্গির লাশের ছবি পুলিশ প্রকাশ করলে তালিকার ৫ নম্বরে থাকা বাবলুর লাশের ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন। নিহতের পিতা মতিউর রহমান ওরফে ময়না শাহ জঙ্গি পুত্রের লাশ গ্রহণ করবেন না বলে প্রশাসনকে জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/ইউবি
