আদিতমারীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর স্থাপন করায় বিদ্যালয়টির নতুন ৪ তলা ভবন নির্মাণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দোকান ঘরটি সরানোর জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার নোটিস দিলেও কোনো কর্ণপাত করছেন না দোকান মালিক। নিরূপায় হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দিয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের পূর্ব তালুক পলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর থেকে একটি চার তলা ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। যার টেন্ডার, ঠিকাদার নিয়োগ ও ওয়ার্ক অর্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে; কিন্তু বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মাণে বাধ সাধেন অবৈধভাবে দখল করা দোকান মালিক মহুবর রহমান। তিনি কোনোভাবেই দোকান সরাতে আগ্রহী নন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রেজুলেশনের মাধ্যমে নোটিস দিয়ে দোকান সরানোর নির্দেশ দিলেও কতিপয় সুবিধাভোগী লোকজনের কারণে দোকান ঘরটি সরিয়ে নিচ্ছেন না। ফলে বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পূর্ব তালুক পলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৫ শতক জমির মধ্যে বিদ্যালয় প্লটে ৪৭ শতক জমি রয়েছে। এ ৪৭ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টির একটি পাকা ভবনও রয়েছে। বাকি জমি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিদ্যালয়টির মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে পাকা রাস্তা সংলগ্ন অনুমান দৈর্ঘ্য ২০ ফিট এবং প্রস্থ ১৫ ফিট জায়গা অবৈধভাবে দখল করে একটি চৌচালা টিনের গালামালের দোকান ঘর তৈরি করেন মহিষাশহর এলাকার আছর উদ্দিনের ছেলে মহুবর রহমান।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, একাধিকবার দোকান ঘরটি সরানোর জন্য বলা হলেও তিনি জোরপূর্বক দখল করে রাখছেন সরকারি জায়গা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, উল্টো হুমকি দিচ্ছেন স্কুল কর্তৃপক্ষকে।
অভিযুক্ত দোকান মালিক মহুবর রহমান সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকান থেকে সটকে পড়েন। তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী জানান, একাধিকবার দোকান ঘর সরানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও কোনো কর্ণপাত না করায় বিদ্যালয়ের মাঠ অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহীনুর আলম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএন
