কথা হচ্ছিল মুক্তিযু্দ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুরের প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী মোজম্মেল হক আর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ-এর সঙ্গে। তাঁরা এসেছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র উদ্বোধন করতে ২০১৬ সালে। আলাপচারিতায় জানলাম, ঘোষিত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বেই শুরু হয়েছিল এক অঘোষিত মুক্তিযুদ্ধ। আর সেটা শুরু হয়েছিল জয়দেবপুরে (যা আজ গাজীপুর নামে পরিচিত)। দিনটি ছিল শুক্রবার, ১৯ মার্চ ১৯৭১। তাঁরা তিন জনই তখন বয়সে নবীন, হোয়াইট ব্লাডসেলে ভরা দেহ, টগবগে তারুণ্যদীপ্ত চকচকে নয়ন-দৃষ্টি সামনের দিকে, পূর্ববাংলার বুকে দাঁড়িয়ে আগামীর বাংলাদেশ তাঁদের মানসচক্ষে। প্রথম জন গাজীপুরের দাখিন খান গ্রামের অধিবাসী তত্কালীন মহকুমা ছাত্রলীদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুরের সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর সশস্ত্র প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক এবং বঙ্গবন্ধুর প্রিয়ভাজন, দ্বিতীয় জন ছাত্রনেতা/মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আর তৃতীয় জন দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সামরিক কর্মকর্তা। প্রথম এবং তৃতীয় জন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন গাজীপুরের সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে, যেটি ছিল মূলত পূর্ববাংলার স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহ। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিন জনই শরিক হন রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধে এবং ফিরে আসেন গাজী হয়ে।
একটু পেছনে ফিরে তাকাই। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মার্চ মাসের প্রথম থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশে চলছিল লাগাতার অসহযোগ আন্দোলন। ৭ মার্চের ভাষণের পর এমনিতেই সবাই আশঙ্কা করছিল, পাকিস্তানি হানাদাররা যেকোনো মুহূর্তে কঠিন আকারে দমন-নিপীড়ন শুরু করতে পারে। কারণ এ ভাষণে তিনি ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ কথাটি উচ্চারণ করে প্রকারান্তরে জনগণকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের জন্য সবাই তৈরি হও। ইতিমধ্যে ১৭ মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সাথে বঙ্গবন্ধুর একটি নিষ্ফল আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জনতার সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কারফিউ জারি করা হয় ছোট্ট শহর জয়দেবপুরে। ঘটনাটি ঘটেছিল হঠাত্ করে। জয়দেবপুরে ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য সকল বাঙালি সেনাকে অস্ত্র সমর্পণ করার আদেশ দেয়া হয়। এরই মধ্যে খবর আসে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জাহান জেব তাঁর রেজিমেন্ট নিয়ে জয়দেবপুর পৌঁছে গিয়েছেন—উদ্দেশ্য, বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করা। ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে আ ক ম মোজম্মেল হক বিষয়টি বঙ্গবন্ধুকে জানান। তিনি সাথে সাথে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ‘বুলেট ও শক্তি দিয়ে গণ-আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না’ বলে পাকিস্তানিদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এবং বাঙালি সেনাদের নিরস্ত্র করা থেকে পাকিস্তানি সেনাকর্মকর্তাদের প্রতিহত করার জন্য আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ তাঁর সঙ্গীদের নির্দেশ দেন। এ ঘটনা আর ইয়াহিয়া খানের গোঁয়ার্তুমির কারণে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সারাদেশের জনগণ আর জয়দেবপুরের ছাত্র-জনতা গর্জে ওঠে। সারাদেশে উত্তোলন করা হয় কালো পতাকা।
আ ক ম মোজম্মেল হকের নেতৃত্বে ছাত্রনেতারা পািকস্তানি সেনাবাহিনীর ষড়যন্ত্রের খবর চাউর করে দেন সারা জয়দেবপুরে। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সারা এলাকার মানুষ, ছুটে আসে জয়দেবপুরে যার যা কিছু আছে তা নিয়ে—সম্বল ছিল দা, কুড়াল, বঁটি, বাঁশের লাঠি, বর্শা, বল্লম, কয়েকটা দোনলা বন্দুক আর অন্তরে অসীম আক্রোশ। ব্যারিকেড দিয়ে দেয় তারা জয়দেবপুর থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি। হেলাল মোর্শেদ বলেন, বেঙ্গল রেজিমেন্টকে জনতার ওপর গুলির আদেশ দিলে বাঙালি সিপাইরা আকাশের দিকে গুলি ছুড়ে সামনে এগুতে থাকে। এ সময় মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মসজিদের ওপর থেকে চায়নিজ রাইফেল আর বন্দুক দিয়ে সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণ করা হয়। জয়দেবপুর রেলগেটের ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়ার জন্য আদেশ দিলে সেনাবাহিনী সমাগত দশ হাজারের বেশি জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করলে অকুস্থলেই মারা যায় নয় জন (পরে মারা যায় ১১ জন) আর আহত হয় অনেকে। জনতার আক্রমণে পাকি সৈন্যদেরও কয়েক জন আহত হয়। এ ঘটনার পর জয়দেবপুর হয়ে ওঠে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু, স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সারা দেশ : ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। জয়দেবপুরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে তৈরি ভাস্কর্য ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’—রাজধানী থেকে প্রায় বিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গাজীপুর চৌরাস্তায়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মাইলফলক সৃষ্টিকারী এ যুদ্ধ সমগ্র জাতির জন্য শুধু একটি স্মরণীয় ঘটনাই নয়, এটি এখন গাজীপুরের অহংকার। এ প্রতিরোধ যুদ্ধে শামিল হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েক জন এখনো জীবিত আছেন—যাঁদেরকে গাজীপুরের অধিবাসীরা শ্রদ্ধাভরে সংবর্ধনা দেয় প্রতি বছর ১৯ মার্চ ভাওয়াল রাজবাড়ির মাঠে। আর এ সংবর্ধনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন আ ক ম মোজাম্মেল হক, মন্ত্রী হিসেবে নয়, অসীম সাহসী সেই সশস্ত্র বিদ্রোহে নেতৃত্বদানকারী বীর হিসেবে।
গাজীপুরের এ দিনটি ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল দিন। এ দিনটিকে ঘিরেই শুরু হয়েছিল প্রতিরোধ যুদ্ধ। সত্যিকার অর্থে, মুক্তিযুদ্ধের আগেই শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধ। আ ক ম মোজাম্মেল হক আলাপচারিতায় জানান, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল। গাজীপুরের মাটিতে দখলদার বাহিনীর বিরূদ্ধে বীর বাঙালির প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ পরবর্তী সময়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের প্রধান ইন্ধন হিসেবে চিরকাল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে।
১৯ মার্চের আগে থেকেই দেশ ছিল উত্তাল। সত্তরের জাতীয় নির্বাচনে মেজরিটি সিট পেয়েও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করতে নারাজ ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ষড়যন্ত্রের নীলনকশা অনুযায়ী আলোচনার নামে শাসকগোষ্ঠী শুরু করে ভণ্ডামি। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করায় ১লা মার্চের পর থেকে পুরোপুরি পাল্টে যায় দেশের রাজনীতির চিত্র। গণবিক্ষোভে উত্তাল ৪ মার্চে কার্যত পূর্ববাংলায় কায়েম হয়ে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর শাসন। পূর্ববাংলায় গণবিদ্রোহের তোড়ে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানি শাসকদের সিংহাসন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশজুড়ে শুরু হয় অহিংস-অসহযোগ আন্দোলন। সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ, প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে অচলাবস্থা। সাত মার্চের বঙ্গবন্ধুর শাসকদের প্রতি হুশিয়ারি : ‘আমরা তোমাদের ভাতে মারব, আমরা তোমাদের পানিতে মারব’ গর্জে ওঠার পর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় সেনানিবাসে সকল প্রকার খাবার সরবরাহ, বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সেনানিবাস পুরো দেশ থেকে। স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে ঢাকাসহ সকল শহরের রাজপথ প্রকম্পিত মিছিলের পদভারে। আর অন্যদিকে তত্কালীন রাজনীতির খলনায়ক হিসেবে পরিচিত পশ্চিম পাকিস্তানের মাইনরিটি দল পিপল্স পার্টির নেতা ভুট্টো খেলছিল ষড়যন্ত্রের খেলা, তার সহযোগী সামরিক জান্তার ঊর্ধ্বতনদের নিয়ে। পাশাপাশি চলে বঙ্গবন্ধু আর ইয়াহিয়ার আলোচনা। জয়দেবপুরের ঘটনার পর পূর্ববাংলার মানুষ বুঝে ফেলেছিল এখন শুধু প্রস্তুতির পালা একটি যুদ্ধের জন্য, দেশের মাটিকে এক হাজার মাইল দূর থেকে শাসন করতে থাকা অমানুষের খপ্পর থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে।
পরের দিন ২০ মার্চ লাগাতার অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যেই ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশে মুক্তি সংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশসহ সম্মিলিত মুক্তিবাহিনী কমান্ড গঠনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রাক্তন বাঙালি সৈনিকদের প্রতি আহ্বান জানান সাবেক নৌসেনারা। এদিন সকালে অনুষ্ঠিত হয় ইয়াহিয়া আর বঙ্গবন্ধুর মধ্যে চতুর্থ দফা আলোচনা বৈঠক। আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও বঙ্গবন্ধুর ভাষ্য থেকে বোঝা গেল, অনেক কিছু তখনো অমীমাংসিত। তিনি ঘোষণা করেন, বাংলার মানুষের সার্বিক মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। লোক দেখানো আলোচনা বৈঠকের পাশাপাশি পাকিস্তানি শাসক ইয়াহিয়া আর ভুট্টো চালাতে থাকে গোপন ষড়যন্ত্র, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে গোপন বৈঠকে করতে থাকে শলা-পরামর্শ আর অতি সংগোপনে তৈরি করে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে একটি আক্রমণ কৌশল—যার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি দলন। একইসাথে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে থাকে বাড়তি সৈন্য আর অস্ত্রের চালান। পাকিস্তানিদের মনে ছিল হার্মাদি মতলব, মুখে ছিল সমঝোতার বাণী। এরূপ অবস্থার মধ্যেই এগিয়ে আসতে থাকে পূর্ববাংলার বুকে ভয়ানক দানব—যার পরিচিতি বিশ্ববেহায়া টিক্কা খান।
বঙ্গবন্ধু আর আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুপ্রেরণায় সংঘবদ্ধ হতে থাকে বাংলার কৃষক-শ্রমিক-জনতা। বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে। গোপন বেতারের মাধ্যমে আগেই তিনি রেকর্ড করে রাখেন স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পাকিস্তানি শাসকদের হাতে বন্দি হওয়ার আগেই পাঠিয়ে দেন চট্টগ্রামে অবস্থানরত সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের নিকট, যিনি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তা পাঠ করে ছড়িয়ে দেন জনগণের মাঝে। সে রাতেই বঙ্গবন্ধুকে নিয় যাওয়া হয় পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির কাছাকাছি মিয়ানওয়ালি কারাগারে। বন্দি করে রাখা হয় বাহাত্তরের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২৬ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধ চলে নয় মাস, ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেদিন অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। এ নয় মাস ছিল বাংলার বুকে নরহত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ড, নিপীড়ন-নির্যাতন আর পোড়ামাটি নীতির বাস্তবায়ন। এক কোটির বেশি মানুষ জীবন রক্ষার জন্য আশ্রয় নেয় বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতে, চরম দুরাবস্থায় কাটায় নয় মাস আশ্রয়শিবিরে। প্রশিক্ষিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির অসম লড়াইয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে জিতে আসে বাংলার দামাল মানুষেরা। যুদ্ধে অংশ নেয় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বাকিরা সবাই, একশ্রেণির পাকিস্তানি দালাল ছাড়া। কেউ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছে সরাসরি, কেউ করেছে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা, কেউ এলাকার মানুষদের সংগঠিত করে উদ্বুদ্ধ করেছে মুক্তিযুদ্ধে, কেউ অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে মরেছে কিংবা গাজী হয়েছে, কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রসদ সরবরাহের দায়িত্ব নিয়েছে, কেউ কেউ কৌশলে বদমায়েশ-বিশ্বাসঘাতক রাজাকাদের করেছে প্রতিহত। আড়ালে-আবডালে কৃষিকাজ অব্যাহত রেখে কেউ কেউ ঠিক রেখেছে খাদ্যের জোগান। সবই মুক্তিযুদ্ধের অংশ, তাই সবাই মুক্তিযোদ্ধা। তারা কেউ সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য কিংবা কারও কাছ থেকে বাহবা কুড়ানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধে জড়িত হয়নি, তারা যুদ্ধ করেছে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষার জন্য, দেশকে হানাদারমুক্ত করে একটি সোনার বাংলা গড়ার জন্য। চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও সারা বংলার মানুষ যার কাছে যা কিছু ছিল তা দিয়ে অবিরাম ধারায় টিকিয়ে রেখেছে মুক্তিযুদ্ধের গতিকে। আর এসবের মধ্য দিয়ে মিত্রবাহিনীর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেছে হানাদার বাহিনীর নিয়াজী গংকে। রেসকোর্স ময়দান চিরকালের সাক্ষী হয়ে থাকবে হানাদার বাহিনীর এ চরম পরাজয়ের আর মুক্ত বাঙালির বজ্র-উল্লাসের।
লেখক : শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট; উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
