ঢাবির ঝুঁকিপূর্ণ ‘হাজী মুহম্মদ মুহসীন’ হলের বিভিন্ন দেয়াল ও ছাদের ফাটল প্লাস্টার এবং চুনকাম করে ঢেকে দেয়া হচ্ছে। এতে করে ফাটল সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও ছাত্ররা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটান। সংস্কারের গুণগত মানেও ত্রুটি রয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, সংস্কারের কাজ তাড়াহুড়া করে হচ্ছে। ভালো করে কাজ করতে বললে বলছে সময় নাই। দায়সারাভাবে কাজ করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তো আর লাভ হবে না। তিনি এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে, প্রায় ছয়মাস যাবত সংস্কারের কাজ শুরু হলেও তা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এতে মাঝে মাঝে ছোট ছোট দুর্ঘটনা ঘটছে। গত রবিবার হলের ৩৪৮ নং রুম থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন রুমের কয়েকজন শিক্ষার্থী।
আসিক মাহমুদ নামে ঐ রুমের একজন বলেন, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোর সম্মুখীন আমরা হতে চাই না।হলের গেট,ফুলের বাগান, ফ্লোরিং বা টাইলস, সাজসজ্জার নানা রকম কাজ কতৃপক্ষ করছে যেটা প্রশংসনীয়। কিন্তু কিছু মৌলিক বিষয়ের সমস্যার কারণে আমরা সমস্যর সম্মুখীন হচ্ছি, যেটার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের একটু তদারকি আমরা আশা করছি।
IMG0
হলের প্রভোস্ট নিজামুল হক ভুইয়া বলেন, হলটা অনেক পুরাতন। এক্ষেত্রে ফাটল ধরা ধসে পড়াটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মোটামুটিভাবে কাজ করছে। হলে শুধু রঙ্গের কাজটাই বাকি আছে। ছাত্ররা কিছু কাজ ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিযোগ করেছে। হলের কমিটি এ বিষয়ে তদারকি করছে।
ছাত্রদের আতঙ্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বুয়েট থেকে পরীক্ষা করে বলা হয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।এটা সংস্কার করলেই চলবে। বাংলাদেশে হওয়া ভূমিকম্পে বড় বড় বিল্ডিংয়ে ফাটল দেখা গেলেও মহসিন হলে কোনো ফাটল দেখা যায়নি। এসময় হল সংস্কারের গুণগত মানে তিনিও সন্তুষ্ট নন বলে মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাবির জগন্নাথ হলের অনুদ্বৈপায়ন ভবনের টেলিভিশন ভবনের ছাদ ধসে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী মারা যান। সেই থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে পালন করেন। আজ এই দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএসএস
