নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে বিত্তশালীদের ১০ টাকা কেজির চাল দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে হতদরিদ্ররা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইউনিয়নে দুই হাজার ৩০৫টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্য ৬৫ জন রয়েছেন বিত্তশালী।
নাজিরপুর ইউপির (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবুর বিরুদ্ধে কার্ড বিতরণে পক্ষপাতিত্ব, তালিকায় বিত্তবানদের অন্তর্ভুক্তকরণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন এলকাবাসী। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য কর্মকর্তা বরাবর সুবিধা বঞ্চিতরা গণ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগে চাল পাওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন ওইসব হতদরিদ্র মানুষ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইয়াসমিন আক্তার অভিযোগের কপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ওই ইউনিয়নের আনছার আলী মোল্লা, আব্দুর রশিদ ও মোজাম্মেল হকসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, যাদের পাকাবাড়ি, জমিসহ পুকুর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের দেয়া হয়েছে হতদরিদ্রদের চালের কার্ড।
তারা বলেন, তারা নিজ উদ্যোগে দুই হাজার ৩০৫ জনের মধ্যে ১২০ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছেন। ওই তালিকায় বিত্তশালী রয়েছেন ৬৫ জন। একই পরিবারের সাতজনসহ একই ব্যক্তিকে দুইটি করে কার্ড দেয়া হয়েছে এমন ব্যক্তি রয়েছেন সাতজন। এক পরিবারে স্বামী-স্ত্রীকে কার্ড দেয়া হয়েছে এমন পরিবার রয়েছে ছয়টি। তাছাড়া একই পরিবারে বাবা-ছেলে ও মেয়েকে কার্ড দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবুর দাবি, কোন প্রভাবশালীদের চাল বা কার্ড দেয়া হয়নি। এলাকার কিছু মানুষ তার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন দফতরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
