স্মারক

চেতনা ৭১

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৯, ১৯:৪৩

আমাদের জাতীয় জীবনে স্বাধিকার আন্দোলন থেকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের সূচনা হয় ১৯৭১ সালের ২৬  মার্চ। নিরস্ত্র বাঙালি জাতি ক্ষোভ-দ্রোহে সশস্ত্র হয়ে ফুঁসে উঠেছিল যুদ্ধের ময়দানে। সবুজ শ্যামল জনপদে পাকসেনাদের অভূতপূর্ব গেরিলা প্রতিরোধ করে এদেশের মুক্তিযোদ্ধারা। অপ্রতিরোধ্য মুক্তিবাহিনী জীবনবাজি রাখে প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ত্রিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত বিজয়। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের সামনে এগিয়ে চলা। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়  ‘চেতনা ৭১’ ভাস্কর্য।

ভাস্কর্যের মূলে রয়েছে তারুণ্যে বলীয়ান দু শিক্ষার্থীর অবয়ব। যেখানে একজন ছাত্র যে সহপাঠী ছাত্রীর সঙ্গে বীরত্বপূর্ণ ভঙ্গিমায় জাতীয় পতাকা হাতে অবস্থানরত। ছাত্রছাত্রীর পাশাপাশি অবস্থান জাতীয় জীবন থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নির্দেশ করে। ছাত্রীটি দুহাতে আঁকড়ে রেখেছে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতীক বই। খোলা আকাশের নিচে ভাস্কর্যটি সগৌরবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য মাথা উঁচ করে দাঁড়িয়ে আছে। ভাস্কর্যটির মূল বেদিতে পৌঁছাতে রয়েছে ১০ ইঞ্চি ব্যবধানের তিনটি ধাপ। এই ধাপগুলো লাল ও কালো সিরামিক ইটের তৈরি। ৮ ফুট লম্বা মূল ভাস্কর্যটি ৪ ফুট উঁচু বেদির ওপর অবস্থিত।

চেতনা ৭১ ভাস্কর্যটি রূপ লাভ করে ২০১১ সালের ৩০ জুলাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক সালেহ উদ্দীন এটি উদ্বোধন করেন আর নকশা প্রণয়ন করেন মোবারক হোসেন নৃপাল। এর আগে ২০০৯ সালের ২৬ মার্চ ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে মিনি অডিটোরিয়ামের পশ্চিম পাশে অস্থায়ীভাবে নির্মিত হয়। এটি নির্মাণে ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়, যার অর্থায়ন করে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বেসরকারি ডাচ্বাংলা ব্যাংক।