কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন স্মরণ উত্সব আজ থেকে

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৬, ০২:০৪
মৃত্যু হয়েছে ১২৬ বছর আগে। বেঁচে ছিলেন প্রায় ১১৬ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাননি। বরং তার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্য বেড়েছে, বেড়েছে পরিধি। মহামতি ফকির লালন শাহ শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে এক ঐন্দ্রজালিক মোহময়তা বিস্তার করে চলেছেন। দিন দিন তাঁর সে ঐন্দ্রজালিক বলয়ের বিস্তৃতি ঘটছে। অগণিত মানুষ তাঁর বিশাল সৃষ্টি-জগতে প্রবেশ করে সন্ধান করছেন যেন লালনেরই। আজ রবিবার কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় মহামতি লালন শাহের ১২৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী লালন স্মরণ উত্সব। সারাদেশ থেকে লালন অনুসারীরা আসতে শুরু করেছেন কয়েকদিন আগে থেকেই।
 
গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিনে ছেঁউড়িয়া লালন আখড়াবাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, সাধক লালনের আধ্যাত্মিক দর্শন লাভের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন আখড়ায়। একতারা, দোতারা, ঢোল ও বাঁশির সুরে মুখরিত হয়ে উঠেছে লালনভূমি ছেঁউড়িয়া। মরমী সাধক ফকির লালন শাহের স্মরণানুষ্ঠান উপলক্ষে লালন একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দলে দলে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন ছেঁউড়িয়ায়। ভক্ত, অনুসারীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ছেঁউরিয়া। বিভিন্ন দেশ থেকেও লালনভক্তরা এসে হাজির হচ্ছেন উত্সবে।
 
আজ ১৬ অক্টোবর পহেলা কার্তিক, বাউল সম্রাট মহামতি ফকির লালন শাহের ১২৬তম তিরোধান দিবস। কুষ্টিয়ার কুমারখালী   উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া লালন আখড়াবাড়িতে শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী লালন স্মরণোত্সব। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবারের উত্সবের শিরোনাম করা হয়েছে:‘পারে লয়ে যাও আমায়.. ’। অন্যান্যবার পাঁচদিনব্যাপী হলেও এবার স্মরণোত্সব অনুষ্ঠিত হবে ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর তিনদিনব্যাপী। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছেঁউড়িয়া লালন আখড়াবাড়ির মূল আঙিনার বাইরে মরা কালীগঙ্গা নদীর তীরে ‘লালন উন্মুক্ত মঞ্চে’ আলোচনাপর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে স্মরণোত্সব উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক মোঃ জহির রায়হান।
 

বাংলা ১২৯৭ সনের পহেলা কার্তিক দেহত্যাগ করেন ফকির লালন শাহ। সেই থেকে প্রতি বছর লালন ভক্তরা তিরোধান দিবসে আয়োজন করেন স্মরণানুষ্ঠানের। ভক্তদের মতে, ১১৬ বছর বয়সে বাংলা ১২৯৭ সনের পহেলা কার্তিক, ইংরেজি ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর ফকির লালন শাহ দেহত্যাগ করেন। লালনের জন্মস্থান নিয়ে নানা মত থাকলেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তিনি খ্রীষ্টীয় ১৭৭৪ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ভাঁড়রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলার এক ক্রান্তিকালে তিনি জন্মেছিলেন সংস্কার-জাতপাত ও শাস্ত্রশাসিত এক ধর্মান্ধ সমাজে। তত্কালীন ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর নির্মম অত্যাচারে সাধারণ মানুষ যখন জর্জরিত, ঠিক সেই সময় সত্যের পথ ধরে, মানবতার পথপ্রদর্শক হয়ে কুমারখালীর ছেঁউড়িয়াতে ফকির লালন সাঁই’র আবির্ভাব ঘটে। তিনি আপন অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি ও চেতনার মধ্য দিয়ে একজন জ্ঞানালোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। একইসঙ্গে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক শক্তির অর্চনা করে তিনি হয়ে ওঠেন নিগৃহীত-নিম্নবর্ণের মানুষের পরমপুরুষ।