মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৬, ০০:৪৯
মা ইলিশ রক্ষায় বিভিন্ন স্থানে অভিযানকালে জেলে আটক, কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত হাজার হাজার মিটার জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
 
নলছিটিতে তিন জেলে আটক জাল ও ২০ কেজি ইলিশ জব্দ
 
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে গতকাল রবিবার সকালে অভিযান চালিয়ে মা ইলিশ ধরার সময় তিন জেলেকে আটক করে মত্স্য বিভাগ। অভিযানকালে দুই লাখ টাকা মূল্যের ১২  হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ২০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। পরে জালগুলো নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
 
মত্স্য বিভাগ সূত্র জানায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মা ইলিশ মাছ ধরার সময় পুলিশের সহযোগিতায় সুগন্ধা নদীর বহরমপুর এলাকা থেকে গোবিন্দ, মনিরুল ইসলাম ও জসিম নামে তিন জেলেকে আটক করা হয়। আটককৃতরা ভৈরবপাশা ইউনিয়নের চর বহরমপুর গ্রামের বাসিন্দা। এদিকে জব্দকৃত মাছ তিনটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
 
হরিরামপুরে ৪ মণ ইলিশ জব্দ
 
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ধুলসুরা এলাকা থেকে চার মণ ইলিশ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ইলিশ মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার সকালে ধুলসুরার একটি মাছের আড়তে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই মাছ জব্দ করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের  উপস্থিতি টের পেয়ে আড়তদাররা পালিয়ে যায়।
 
শিবালয়ে ৮ জেলের জেল ও ছাত্রের জরিমানা জাল ধ্বংস
 
নিষিদ্ধ সময়ে শিবালয়ের পদ্মা-যমুনায় ইলিশ শিকারের দায়ে গতকাল রবিবার মত্স্য অধিদপ্তর ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক ও জেল-জরিমানা করেছে। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা রফিকুল আলম জানান, দাশকান্দীর পশ্চিমে পদ্মায় অভিযান চালিয়ে ইলিশ ধরার দায়ে চর শিবালয়ের মতিন, সাঈদুর, আলোকদিয়ার সুরুজ, আলেক, হানিফ, দৌলতপুর বাঁচামারার সানোয়ার ব্যাপারী, শাহজাদপুরের শফিকুল ও মোঃ গাজীকে আটক করা হয়। ইউএনও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট কামাল মোহাম্মদ রাশেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে এদের এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই দায়ে চরশিবালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মিজানুরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এক লাখ ঘনমিটার জাল পুড়িয়ে ও ১০ কেজি ইলিশ স্থানীয় মাদ্রাসায় দেয়া হয়। 
 
কালকিনিতে ৮ হাজার মিটার জাল জব্দ, ৫ জেলেকে জরিমানা
 
মাদারীপুরের কালকিনিতে আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে ৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ১০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার রাতে উপজেলার কয়ারিয়া এলাকার রামারপোল এবং রবিবার সকালে খাসেরহাটে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ভ্রাম্যামাণ আদালত এ অভিযান চালায়। এ সময় আটক ৫ জেলেকে ৭৫০ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি জব্দ ১০ কেজি ইলিশ মাছ দুটি এতিমখানায় দান করা হয় এবং জব্দকৃত কারেন্ট জাল আগুনে পুড়ানো হয়।
 
বাউফলে ৮ শিশু জেলেকে অর্থদণ্ড
 
পটুয়াখালীর বাউফলে গত শনিবার রাতে তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারের অপরাধে ৮ শিশু জেলেকে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, মা ইলিশ শিকারে কৌশল অবলম্বন করে শিশুদের ব্যবহার করছেন জেলেরা। শনিবার রাতে তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ৫শ’ মিটার জালসহ ৮ শিশু জেলেকে আটক করা হয়। পরে আদালত বসিয়ে শিশু জেলে হওয়ায় প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে জরিমানা ও মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়।
 
মঠবাড়িয়ায় দুই হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ
 
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ইলিশ ধরা বন্ধে বলেশ্বর নদে শনিবার অভিযান চালিয়ে অর্ধলাখ টাকা মূল্যের দুই হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও মাছ জব্দ করেছে মত্স্য বিভাগ।  পরে জব্দকৃত জাল  জনসমক্ষে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এছাড়া আটককৃত ইলিশ মাছ বিভিন্ন এতিমখানায় দান করা হয়।
 
পাংশায় ৪ জেলের কারাদণ্ড
 
রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার করার অপরাধে চার জেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
 
শনিবার সন্ধ্যায় নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাশেদুর রহমান বাহাদুরপুর-হাবাসপুর পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৪ জেলেকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের বারেক মণ্ডল, মাসুদ, নজরুল এবং ওমর আলী। উদ্ধারকৃত জাল পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং জব্দকৃত ইলিশ মাছ এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
 

ইত্তেফাক/এএন