মিঠাপুকুরে ৬ প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের টাকা লুটপাট!

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৬, ০০:৫১
মিঠাপুকুরে ৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়গুলো হলো, শঠিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খিয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তনকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ময়েনপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
 
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুরে অবকাঠামো সংস্কার করার জন্য ৬টি বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতের দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দ হয়। প্রকল্পের এস্টিমেট অনুযায়ী উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন হওয়ার ছাড়পত্র দিলেই বরাদ্দকৃত টাকা প্রদান করবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর। কিন্তু, মিঠাপুকুরের ওই ৬ বিদ্যালয়ে সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ জন্য উপজেলা প্রকৌশল ও শিক্ষা দপ্তরের কর্মচারীদের দিতে হয়েছে উেকাচের টাকা।
 
সরেজমিনে শঠিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ওই বরাদ্দের টাকা দিয়ে ভবনে হালকা রঙ ও একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে ৫টি বিল-ভাউচারে দরজা-জানালা মেরামত, ড্রেন নির্মাণ, রং করা ও মিস্ত্রি খরচ দেখিয়েছেন দেড় লাখ টাকা। বিদ্যালয়ের সভাপতি জাহিদ হোসেন সরকার বলেন, কয়েক বছর আগে একটি প্রাচীর ভেঙে গেছে। ওই ইট ও নতুন কিছু ইট দিয়ে প্রধান শিক্ষক ড্রেন নির্মাণ করেছেন। অভিভাবকেরা বলেন, ‘বিদ্যালয়ের কাজের জন্য টাকা বরাদ্দ এসেছে, আমরা কেউ জানি না। ক’দিন আগে মিস্ত্রি এসে ৪/৫ দিন কাজ করে ড্রেন নির্মাণ ও ভবনে হালকা রং করে চলে গেছে। জানালা-দরজায় কোনো কাজ করা হয়নি।’ শঠিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুর ইসলাম বলেন, এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
 
খিয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামতের জন্য এক লাখ ৫৮ হাজার টাকা দিয়ে দায়সারা গোছের কাজ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক খরচের ভাউচারে আব্দুর রাজ্জাক নামে একজনের মিস্ত্রি খরচ দেখিয়েছেন ৪৬ হাজার টাকা। কিন্তু, তিনি কাজ করেননি। বালুয়া মাসিমপুর এলাকার রাজমিস্ত্রি আবু সাইদ মেরামত কাজ করেছেন। তিনি বলেন, সবমিলে খিয়ারপাড়া বিদ্যালয়ের কাজের বিল এসেছে ৩০ হাজার টাকা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ মো. সোহরাব হোসেন বলেন, মিস্ত্রির নামের জায়গায় ভুল হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ‘আমার জানা মতে, সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন-অর-রশীদ বলেন, ‘যদি এমনটি হয়ে থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
 
ইত্তেফাক/এএন