সর্বসাকুল্যে শ’দুয়েক দর্শক। তাদের কণ্ঠস্বর থেকে নিঃসৃত চিত্কার মাঠে থাকা ক্রিকেটারদের কর্ণকুহরে পৌঁছালেও তা আলোড়ন তৈরিতে সক্ষম হয়নি। মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল দিনভর আবাহনী ও মোহামেডানের লড়াইয়ে একটা নিস্তরঙ্গ আবহই বিরাজ করলো।
ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় বড় ম্যাচ নিয়ে দর্শকদের অনীহা অবশ্য নতুন নয়।
আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচও ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঠে টানতে, তাদের মাঝে খেলা দেখার আবেদন জাগাতে ব্যর্থ। এটুকু বললে অত্যুক্তি হবে না, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ক্লাবের লড়াই নিয়ে যত চর্চা, আলাপ-আলোচনা সবই এখন গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে নিহিত।
গ্যালারির দর্শকশূন্যতার পাশাপাশি মাঠের ক্রিকেটেও ছিল না কোনো আকর্ষণ। আগের মতো জৌলুস নেই, প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁঝও উবে গেছে। গত কয়েক মৌসুমের মতো গতকালও মিরপুরে আরেকটি একপেশে আবাহনী-মোহামেডান লড়াই মঞ্চস্থ হয়েছে। যেখানে আগের তিন বারের মতো জয় পেয়েছে আবাহনী। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডের ম্যাচে গতকাল মোহামেডানকে ছয় উইকেটে হারিয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দল। ছয় ম্যাচে আবাহনীর এটি পঞ্চম জয়। আর টানা তৃতীয় ম্যাচ হারলো মোহামেডান। প্রথমে ব্যাট করে সাত উইকেটে ২৪৮ রানের পুঁজি গড়ে মোহামেডান। জবাবে জহুরুল ইসলাম অমির হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৭.৩ ওভারে চার উইকেটে ২৫৪ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় আবাহনী। নার্ভাস নাইনটিজের শিকার হওয়া জহুরুল ম্যাচ সেরা হন।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা মোহামেডানের দুই ওপেনার লিটন দাস ও আব্দুল মজিদ সকালে মিরপুরের উইকেটের কম্পমান সময়টা কাটিয়ে দিয়েছিলেন। মাশরাফি-সাইফউদ্দিনকে উইকেট দেননি। কিন্তু বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল অপু আসতেই ভাঙে মোহামেডানের ওপেনিং জুটি। ইনিংসের ১৩তম ওভারে ২৭ রান করে লিটন শর্ট মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। মজিদের ৬৭ বলে ২৬ রানের সংগ্রামী ইনিংসটা থামান মোসাদ্দেক। তৃতীয় উইকেটে রকিবুল-ইরফান শুক্কুরের ৬৮ রানের জুটিতে লড়াই জমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল মোহামেডান। কিন্তু হাফ সেঞ্চুরির পর দুজনই ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ইরফান শুক্কুর ৫৭, রকিবুল ৫১ রান করেন। তারপর চতুরঙ্গা ডি সিলভার ৩২, সোহাগ গাজী ২৭ রানে দুশ পার হয় মোহামেডানের স্কোর। মজার বিষয় হলো, এদিন আশরাফুলকে ৮ নম্বরে নামিয়েছিল ক্লাবটি। সাত বলে অপরাজিত ৪ রান করেছিলেন তিনি। আবাহনীর পক্ষে নাজমুল অপু, সাইফউদ্দিন তিনটি করে, মোসাদ্দেক একটি উইকেট পান। আবাহনীর শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের জন্য টার্গেটটা বড় ছিল না।
সৌম্য সরকার ও জহুরুলের ১০৫ রানের ওপেনিং জুটি যেটি আরো সহজ করে দেয়। সৌম্য ৪৩ রান করে ফিরেন। দ্বিতীয় উইকেটে ওয়াসিম জাফরের সঙ্গেও ৬৯ রানের জুটি গড়েছিলেন জহুরুল। ওয়াসিম জাফর ৩৮ রান করে আউট হন। একপ্রান্ত আগলে থাকলেও চার রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়েছেন জহুরুল। ৯৬ রান করে শাহাদাতের বলে বোল্ড হন তিনি। পরে শান্তর ১৬, মোসাদ্দেকের অপরাজিত ১৮, সাব্বিরের অপরাজিত ২১ রানে ম্যাচ জিতে যায় আবাহনী। মোহামেডানের শাহাদাত হোসেন দুটি উইকেট পান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
মোহামেডান: ৫০ ওভারে ২৪৮/৭ (ইরফান শুক্কুর ৫৭, রকিবুল ৫১, চতুরঙ্গা ডি সিলভা ৩২, লিটন দাস ২৭, আব্দুল মজিদ ২৬, সোহাগ গাজী ২৭; নাজমুল অপু ৩/২৯, সাইফউদ্দিন ৩/৩১, মোসাদ্দেক ১/২৭)
আবাহনী: ৪৭.৩ ওভারে ২৫৪/৪ (জহুরুল ৯৬, সৌম্য ৪৩, ওয়াসিম জাফর ৩৮, সাব্বির রহমান ২১*, মোসাদ্দেক ১৮*, নাজমুল শান্ত ১৬; শাহাদাত ২/৫৯, চতুরঙ্গা ডি সিলভা ১/২৭, শফিউল ১/৫৪)। ফলাফল: আবাহনী ছয় উইকেটে জয়ী।
