জেএমবির নাশকতার ফান্ডে বিপুল টাকা!

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৬, ০৯:১১
 
দেশজুড়ে নাশকতা চালানোর জন্য জেএমবি পৃথক একটি ফান্ড গঠন করেছে। এই ফান্ডে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা করা হয়েছে। অপর দিকে নাশকতা চালাতে গিয়ে আহত-নিহত জঙ্গিদের পরিবারগুলোর ব্যয় নির্ধারণের জন্য পৃথক আরেকটি ফান্ড গঠন করেছে এই সংগঠনটি। এসব ফান্ডে কেউ কেউ তাদের বসবাসের জমি এমনকি ফ্ল্যাট বিক্রির পুরো টাকাও দিয়েছে। আবার কেউ কেউ চাকরির অবসর ভাতার পুরোটাই জমা দিয়েছে। আবার ফান্ডের অর্থ সংগ্রহের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই জঙ্গিরা ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। এই দুটি ফান্ডের অর্থ কার কার ব্যাংক একাউন্ট দিয়ে লেনদেন হচ্ছে তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থা। তবে কি পরিমাণ টাকা এবং কার কার ব্যাংক একাউন্টে এসব রয়েছে তা এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন সময়ে র্যাব পুলিশের অভিযানে আটক জঙ্গিদের কাছ থেকে তদন্ত কর্মকর্তারা জঙ্গি অর্থায়নের তথ্য সংগ্রহ করেছে। সে সব তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন অর্থায়নকারীর নাম পরিচয় জেনেছে। তাদের ব্যাংক লেনদেন বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে তাদের আটক করার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
 
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়া শিশু হাসপাতালের চিকিত্সক ডা. রোকনউদ্দীন খন্দকার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলায় আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। সপরিবারে সিরিয়া যাওয়ার আগে রোকনউদ্দীন জেএমবির তহবিলে ৮০ লাখ টাকা দিয়ে যান। তবে তিনি যাকে এই টাকা জমা দেওয়ার জন্য দিয়েছিলেন তিনি পুরো টাকা জমা না দিয়ে কিছু কম দেন। এছাড়া মিরপুরের রূপনগরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত মেজর জাহিদ তার অবসর ভাতার পুরো টাকা নব্য জেএমবির তহবিলে দান করেন। তিনি আরও বলেন, পুরান ঢাকার আজিমপুরে পুলিশি অভিযানে নিহত তানভির কাদেরীর উত্তরায় কয়েক কোটি টাকার ফ্ল্যাট ছিল। ফ্ল্যাটটি বিক্রির করে যে টাকা তিনি পেয়েছিলেন তাও জেএমবির তহবিলে জমা দিয়েছিলেন। এ ছাড়া অর্থ সংগ্রহের জন্য জেএমবি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। সেখান থেকে পাওয়া অর্থ নাশকতার জন্য ফান্ডে জমা করা হতো। এসব টাকার কিছু অংশ গ্রেফতার হয়ে জেলে আটক থাকা নেতাদের জামিনের জন্য ব্যয় হতো। ২০০২-২০০৪ সালে বিভিন্ন ব্যাংকে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ করেছে জেএমবি সদস্যরা।
 
মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখা যৌথভাবে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেএমবির সক্রিয় সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত এ সাতজন ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। গত জুন মাসে বনানী থানায় ও অক্টোবর মাসে তেজগাঁও থানায় দুটি ডাকাতির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই সাতজনের সন্ধান পায়।
 
তিনি আরো বলেন, একজন জাল টাকার ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করেছিল জেএমবি। অর্থ সংগ্রহের ব্যাপারে জঙ্গিরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বর করে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাতে গ্রেফতার হওয়া সাত জঙ্গি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা জেএমবির সক্রিয় সদস্য। তারা বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে বাসায় ঢুকে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে। রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় তারা ডাকাতি করে থাকে।