বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবেলায়

বদলগাছীতে সাড়ে ৪ লাখ তাল-বীজ রোপন

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৬, ১৫:০৪
জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির ক্ষয়রোধ, অনাবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে তাল-গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে প্রকৃতি। আকাশে মেঘ জমলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। বজ্রপাতে মানুষের প্রায়ই মৃত্যু ঘটছে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে সারা দেশে বজ্রপাতে প্রায় তিন শ জনের বেশি লোক মারা গেছে। পরিবেশ থেকে তালগাছ হারিয়ে যাওয়ায় এ বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মুত্যু ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর বজ্রপাত বেশি আঘাত হানে সাধারণত উঁচু গাছে। এদিক থেকে তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমায়।
 
তাল বীজ রোপন কর্মসূচিদে নওগাঁর বদলগাছীর উপজেলার প্রায় দুই শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা অংশ নেয়।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দিনদিন পানির স্তর গভীরে নেমে যাচ্ছে। যে এলাকায় তাল গাছ আছে সে এলাকায় বৃষ্টি হবে। এছাড়া তাল গাছ খরা মোকাবেলা ও বজ্রপাত নিরোধে সহায়ক হবে। তাল গাছের মাধ্যমে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
 
আর এ লক্ষ্যেই রাজশাহীর বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের সকল সড়কে তিন লাখ তাল-গাছের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ তালবীজ রোপন করা হয়েছে। এক সঙ্গে সাড়ে চার লাখ তাল বীজ রোপণ করার রেকর্ডও হয়েছে। যা ‘গিনেস’ বুকে স্থান পাওয়ার দাবিদার।
 
এ ধরনের সিদ্ধান্ত সারা দেশের মধ্যে ব্যাপক সাড়া যোগাবে বলে আশা পোষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ প্রকল্পকে শতভাগ সফল করার লক্ষ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ ড. মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী  ছয় অক্টোবর বদলগাছী মাতাজী সড়কে তালবীজ রোপন করে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন।
 
এ প্রকল্পের আওতায় বুধবার সকাল নয়টায় উপজেলার কাদিবাড়ি জিধিরপুর সড়কে তালবীজ রোপনের সময় বরেন্দ্র চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধূরী, উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা অলি আহম্মেদ রুমী চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন শওকত, বরেন্দ্র নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মালেক, উপজেলা বরেন্দ্র সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইবুনে সাব্বির আহাম্মেদ উপস্থিত ছিলেন।
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুসাইন শওকত বলেন, ‘তাল-গাছগুলো বনবিভাগ, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সরকার সমন্বয় করে পরিচর্যা করবে।’
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ