সকাল থেকেই আবাহনীর ড্রেসিংরুমের পাশে ভিআইপি স্ট্যান্ডে জনা দশেক দর্শক ছিল। আবাহনীর দলীয় পতাকা টানিয়ে রেখেছিলেন তারা। মোহামেডানের ড্রেসিংরুমের পাশের জায়গাটা ফাঁকা। ঠিক মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারির বাকি অংশের মতোই। গতকাল বেলা বাড়ার সঙ্গে ম্যাচের বয়স বাড়তে বাড়তে মুফতে খেলা দেখার সুযোগ পেয়ে শ’দুয়েক দর্শক শেরেবাংলায় হাজির হয়েছিলেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দর্শক খরা আগের মতোই বহাল আছে। বিশেষ করে মিরপুর স্টেডিয়ামে। ক্লাবভিত্তিক সমর্থকরাও এখন আর গ্যালারিতে ভিড় জমান না। ফতুল্লা, বিকেএসপিতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে কম বেশি দর্শক হয়। মিরপুরের দর্শকশূন্যতা খেলোয়াড়দেরও ছুঁয়ে যায়।
গতকাল যেমন মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী ৯৬ রানের ইনিংস খেলার পর জহুরুল ইসলাম অমি বলছিলেন, দিনের পর দিন দর্শক কমছে। দর্শকদের উপস্থিতিতে খেলতে ভালো লাগে। তার আশা, বড় ম্যাচে ভবিষ্যতে আরও দর্শক আসবেন স্টেডিয়ামে।
ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়া জহুরুল দর্শক খরা নিয়ে গতকাল বলেছেন, ‘আমি মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচে এর আগেও খেলেছি। আমি আবাহনীতে ৩ বছর খেলেছি ১২ বছর আগে। আসলে এর থেকে আরও বেশি দর্শক থাকত। এমনকি সমর্থক গোষ্ঠিরাও প্রায় ৫০-৬০ জন থাকত আবাহনীর। এখন দিনের পর দিন কমে আসছে। আসলে দর্শক যত বেশি থাকবে খেলতে তত ভালো লাগবে।’
যে ক’জন দর্শক মাঠে ছিলেন, তারা উত্সাহ যুগিয়েছেন জহুরুলকে। ১৩১ বলে ১২টি চারে ৯৬ রান করেছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। আরও বেশি দর্শক দেখার আশায় জহুরুল বলেছেন, ‘তারপরও আজ (গতকাল) অনেক সমর্থক ছিল আবাহনীর। তারা বেশ কিছু সময় চিত্কার করেছে আবাহনীর পক্ষে। খুব ভালো লাগছিল ভেতর থেকে। আমি চাইব আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ বা যেই বড় ম্যাচ হবে আমাদের, দর্শক আরও বেশি আসুক।’
আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের চাপ-তাপ কমে যাওয়ার পেছনে অনেক কারণই রয়েছে। গতকালও যেমন একপেশে ম্যাচে আবাহনী জিতেছে। দু’দলের সর্বশেষ চার ম্যাচেই জয়ী ধানমন্ডির দলটি। গত কয়েক বছরের তুলনায় শক্তিশালী দল গড়েও গতকাল বলার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি মোহামেডান।
দল হিসেবে মোহামেডানের শক্তিমত্তা কমে আসাই দুই দলের লড়াইয়ের আকর্ষণ কমিয়ে দিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে জহুরুল বলেছেন, ‘না, মোহামেডান অনেক ভালো টিম। এই বছর ওরা অনেক ভালো দল গড়েছে, ভারসাম্যপূর্ণ দল করেছে। হয়তোবা জ্বলে উঠেনি সময়মত। তবে টিমের প্লেয়ারদের বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে খুব ভালো টিম।’
মোহামেডান আগে ব্যাট করে ২৪৮ রান তুলেছিল। ৪৭.৩ ওভারে চার উইকেটে ২৫৪ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় আবাহনী। নিজের সেঞ্চুরি মিস হলেও আবাহনী জেতায় খুশি জহুরুল। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আবাহনী জিতেছে, এই জন্য অনেক খুশি। সেঞ্চুরি মিস হয়েছে, বলটা আসলে অনেক ভালো বল করে ফেলেছে সেকেন্ড স্পেলে এসে রাজিব।’
উইকেটে ব্যাটিংটা সহজ ছিল না। তারপরও মোহামেডানকে বড় স্কোর গড়তে দেয়নি আবাহনী। উইকেটের আচরণ নিয়ে জহুরুল বলেছেন, ‘উইকেটটায় আড়াইশ’ রান খুব সহজ ছিল না। কারণ অসমান বাউন্স করছিল। ডাবল পেস ছিল উইকেটে। আমাদের বোলাররা ভালো বল করেছে। আড়াইশ’ রানে আটকে রেখেছে ওদেরকে।’
