রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে নবাব আব্দুল লতিফ হলের দক্ষিণ-পূর্ব পাশ্বে ডাইনিংয়ের পেছনের ড্রেন থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, এই হত্যা হতে পারে।
নিহত শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু থানার মকিমপুর গ্রামের বদরউদ্দিনের ছেলে। লিপু নওয়াব আব্দুল লতিফ হলের ২৫৩ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাত তিনটার দিকে হঠাত্ করে হলের ডাইনিংয়ের পাশে প্রচণ্ড আকারের একটা শব্দ পাওয়া যায়। তারা বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবে নেয় বলে তারা জানান।
হলের ডাইনিংয়ের কর্মচারী রিনা আক্তার বলেন, সকালে ডাইনিং খোলার পরে হলের পিছনে ময়লা ফেলতে গেলে ওই শিক্ষার্থীর লাশ পড়ে থাকতে দেখি। পরে অন্যান্য কর্মচারীকে বললে তারা সবাই আসে।
লিপুর রুমমেট মনিরুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাত একটা পর্যন্ত আমরা দুইজনই পড়ছিলাম। পরে রুমের বাতি বন্ধ করে আমি ঘুমিয়ে পড়লে সে টেবিল ল্যাম্প জ্তালিয়ে পড়ছিল। তবে এর পরে আমি আর কিছু বলতে পারি না। সকালে উঠে দেখি সে রুমে নাই আর রুমের দরজা খোলা। আমি ভাবলাম হয়তো সকালে উঠে বাথরুমে গেছে। এ চেয়ে আমি আর কিছু জানি না।
লিপুর সহপাঠী সত্য সরকার বলেন, ‘রাত আটটার সময় লিপুর সঙ্গে আমার দেখা হয়। তখন সে আমাকে বলেছিল, আজই সে বাসা থেকে এসেছে। আগামী ২ নভেম্বর পরীক্ষা নিয়ে বেশ টেনশানে আছে। ঐ সময় আমরা অনেক বিষয় নিয়ে হাসিঠাট্টা করেছিলাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মজিবুল হক আজাদ খান বলেন, হলের এক কর্মচারী সকালে ডাইনিংয়ের পাশে লিপুর মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) আমীর জাফর বলেন, প্রাথমিকভাবে এটা হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমারা ইতোমধ্যে মায়নাতদন্তের জন্য লাশ মেডিকেলে পাঠিয়েছি।
এদিকে ছাদের উপর থেকে ফেলে বা হত্যার পরে ড্রেনের ভিতরে রাখা হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে পুলিশ ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। জানতে চাইলে মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) অশোক চৌহান বলেন, এ ব্যাপারে কোন কিছুই এখন বলা যাচ্ছে না।
ইত্তেফাক/এএসএস
