আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় থাকা দুই শতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করলে তিনি তাদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নির্বাচন খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। জোট মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর জন্ম দিন হওয়ায় বুধবার ছিল ছুটির দিন। নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় আপার কাছে নিজেদের বক্তব্য, অভিমান, অনুযোগ তুলে ধরার জন্য এ দিনটিকেই বেছে নেন। জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকা অনেকে যান গণভবনে। একে একে এ সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। একসঙ্গে এত নেতাকর্মীর আগমনের খবর পেয়ে শেখ হাসিনাও নিচে নেমে আসেন। সমবেতরা জড়ো হন ব্যাংকুয়েট হলে। শেখ হাসিনা কার কী বক্তব্য আছে তা শুনতে চান। তখন একে একে অনেকেই তার নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর সামনে বক্তব্য রাখেন মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গোলাম সরওয়ার কবীর, ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং বরিশাল-২ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহে আলম, ঢাকা-২ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহীন আহমেদ (শাহীন চেয়ারম্যান), বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, কুমিল্লা জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, নরসিংদীর শিবপুরের সাবেক এমপি জহিরুল হক ভূঞা মোহন, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল হক আরজু প্রমুখ। বক্তব্য প্রদান কালে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামতকে আমলে নেওয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়েছেন। মনোনয়নের ক্ষেত্রে উপজেলা চেয়ারম্যান-মেয়রদের প্রার্থী না করার ঘোষণাকে পুনর্বিবেচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। তবে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘আমি নেত্রী (শেখ হাসিনার) সঙ্গে দেখা করেছি। আমার মনোনয়নের কথা বলেছি। তিনি আমাকে এলাকায় কাজ করতে বলেছেন। আশা করি আমি মনোনয়ন পাব।’ এদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার কথা শুনে গণভবনে গিয়ে দলীয় প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক।
ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সরওয়ার কবীর প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে কাজ করেছেন। নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দেন।
জানা গেছে, প্রত্যেকের বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী কমবেশি কথা বলেন। আর সবার বক্তব্য শেষে তিনি সমবেতদের উদ্দেশে বলেন, এক একটি আসনে অনেক প্রার্থী। তারপর নির্বাচনী জোটও আছে। জরিপ অনুসারে সবখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী জোটের কারণেও কিছু আসন ছাড়তে হবে। তাই কেউ মনোনয়ন না পেলে মন খারাপ না করে, জোট মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ে কাজ করতে হবে। দলের বা জোটের হোক, প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে ভূমিকা রাখতে হবে সবার।
মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গতকাল ভিড় জমান গণভবনে
এদিকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় উদ্বিগ্ন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গতকাল বৃহস্পতিবার ভিড় জমান গণভবনে। সূত্র জানায়, গণভবনে যেসব নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দেখা হচ্ছে, সবার সঙ্গেই হাসিমুখে কথা বলছেন তিনি। তবে কাউকেই সবুজ কিংবা লাল সঙ্কেত নয়; দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকায় গিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকায় পড়ে না থেকে এলাকায় গিয়ে কাজ করার নির্দেশ
আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ না করা হলেও দলটির হাইকমান্ড থেকে নিশ্চিত মনোনয়ন পাওয়া এমপি-মন্ত্রী-নেতাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গ্রিনসিগন্যাল দিয়ে ঢাকায় পড়ে না থেকে নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।
