কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় খাঁচায় মাছ চাষের অর্থ লোপাটকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে।
জানা গেছে, ‘ইন্টিগেডেট এগ্রিকালচারাল পোডাক্টটিভিটি প্রজেক্ট (আইএপিপি) এর আওতায় উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুড়িয়ায় দুধকুমার নদে খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষে মুড়িয়ারহাট তেলিয়ানীর পাড় মৎস্যজীবী সমিতিকে খাঁচা তৈরি বাবদ তিন লক্ষ ৭৫ হাজার, ঘর তৈরিতে ২০ হাজার ও ও নৌকা তৈরি বাবদ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। মাছের পোনা ও খাবার উপজেলা মৎস অফিস দিয়ে থাকে।
মৎস সমিতির সিরাজুল ইসলাম, হযরত আলী, মজিবর রহমান, মফিজুল ইসলাম ও নবাব আলীসহ অন্যান্য সদস্য অভিযোগ করেন, প্রকল্পপ্রাপ্তির পর সমিতির সভাপতি বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবেদ আলী উপজেলা মৎস অফিসের সঙ্গে যোগসাজস করে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের বেশিরভাগ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে সমিতির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ চলে আসছিল। এরই রেশে বুধবার বিকেলে মুড়িয়ায় মৎস সমিতির সহ-সভাপতি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমানের সঙ্গে মৎস সমিতির সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবেদ আলীর বাক্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। পরে অন্যান্য সদস্যের হস্তক্ষেপে তারা নিবৃত হন। এ সময় মৎস অফিসের উপস্থিত কর্মকর্তারা অবস্থা বেগতিক দেখে সেখান থেকে ফিরে আসেন।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবেদ আলী বলেন, ‘সমিতি ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ কাজে লাগানোর কথা। কিন্তু একটি নৌকা তৈরি ও সংগঠনের ঘর উঠানো বাবদ মৎস সমিতি পেয়েছে মাত্র ১৩ হাজার টাকা। দুধকুমার নদে ২০টি ড্রাম, পাইপ ও নেট দিয়ে একটি খাঁচা তৈরি করে দিয়েছে মৎস অফিস।’
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান বলেন, ‘ওই খাঁচা তৈরিতে দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। পর পর দুইবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংস্কারে ব্যয় হয়েছে দেড় লাখ টাকা।’
খাঁচা তৈরিতে কিভাবে দুই লাখ খরচ হয়েছে ও বন্যা পরবর্তী প্রজেক্ট চালু করলেও কিভাবে তা ক্ষতিগ্রস্থ হলো এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলেননি। এছাড়া পুকুরে ১০ হাজার তেলাপিয়া মাছের পোনা ছাড়ার কথা থাকলে মাত্র দুই হাজার পাঁচ শ পোনা ছাড়া হয়েছে।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবর রহমানের অভিযোগ, মৎস সমিতির সভাপতি আবেদ আলী সব টাকা আত্মসাৎ করায় এ অসন্তোষ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
