নব্য জেএমবি'র জঙ্গি নেতা আব্দুর রহমানের পরিচয় নিশ্চিত করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব জানায়, আব্দুর রহমানই হলো বর্তমান সময়ের নব্য জেএমবি'র আমির 'শাইখ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ' যার আসল নাম সারোয়ার জাহান।
র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, 'ইতোমধ্যে আব্দুর রহমানের একাধিক চিঠি, মেইল, এবং ক্ষুদে বার্তা র্যাবের হস্তগত হয়। উদ্ধারকৃত কয়েকটি চিঠিতে সে শাইখ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ নাম ব্যবহার করে স্বাক্ষর করেছেন এবং এছাড়াও বাংলাদেশের নব্য জেএমবির আমির হিসেবে জঙ্গিবাদে ব্যবহৃত সমুদয় অর্থায়নের কিছু হিসাব পাওয়া যায়।'
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর আশুলিয়ায় র্যাবের অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি'র (নব্য জেএমবি) অন্যতম শীর্ষ নেতা ও অর্থদাতা আব্দুর রহমান ওরফে মোক্তার ওরফে প্রকাশ ওরফে বাবু পালানোর চেষ্টাকালে পঞ্চম তলা থেকে নীচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য সাভারস্থ এনাম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই জঙ্গি নেতার মৃত্যু হয়। মৃত জঙ্গি আব্দুর রহমানের বাসা তল্লাশি করে নগদ ২৯ লাখ ৯৮ হাজার ৮৬ টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ছোট ট্রান্সফরমার ও ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। এ সকল উদ্ধারকৃত বস্তু থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে অনেক অজানা তথ্য।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কর্মস্থলের আইডি কার্ড নিরীক্ষা করে জানা যায়, এই জঙ্গির নাম আব্দুর রহমান পরবর্তীতে তার পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিরীক্ষা করা হয়। পাসপোর্টটি তার ঠিকানায় এসবি’র মাধ্যমে ভেরিফাই করা হলেও বাস্তবিক ঠিকানায় এই চেহারার কোন ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায় নাই। পরে তার পিতা-মাতার সন্ধান পাওয়া যায়। তার পিতা-মাতা কথিত জঙ্গি আব্দুর রহমানের ছবি দেখে তাকে সনাক্ত করে। তার পরিবারের তথ্যের ভিত্তিতে তার নাম ও ঠিকানা হলো-সারোয়ার জাহান, পিতা-আব্দুল মান্নান, মাতা-ছালেহা খাতুন এবং গ্রাম-থুমরিভুজা, উপজেলা-ভোলাহাট, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানে জানা যায়,নিহত এই জঙ্গি নেতা ১৯৯৮ সালের পর থেকেই জেএমবি’র সাথে সংশ্লিষ্ট। সে ২০০৩ সালে জেএমবি নেতা বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে একদল জঙ্গিসহ জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মনতেজারের বাড়িতে পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র দাঙ্গায় লিপ্ত হয়। অতঃপর ২০০৩ সালে গ্রেফতার হলে, ৯ মাস ৪ দিন কারাভোগের পর জামিন পেয়ে সে দেড় মাস বাড়িতে অবস্থান করে এবং পরে আত্মগোপনে চলে যায়।
র্যাব জানায়,ইতোমধ্যে সে কোন এক কওমী মাদ্রাসা হতে দাওরা পাশ করে। সে বাংলা ছাড়াও ইংরেজি, আরবি ও উর্দু ভাষায় পারদর্শী ছিল বলে জানা যায়। -বাসস।
ইত্তেফাক/এসএস
