তিস্তার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৬, ০১:৪৬
‘মোর আর কিছুই থাকিল না বাবা, ইহার থাকি মোর মরণ ভাল’— এভাবেই তিস্তার ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে বিলাপ করছিলেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বারঘড়িয়া গ্রামের দিনমজুর মজিবর রহমান (৬৫)। অবশেষে ঠাঁই হলো তিস্তা নদীর পাশে অন্যের জমিতে। শুধু মজিবরই নয়, এরকম আহাজারি একই গ্রামের আছিনুর, আনছার আলী ও রুহুল আমীনসহ অনেকের। এদের সবার বসতভিটা হঠাত্ করে গত দু’দিনে তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, হঠাত্ করে তিস্তা নদীর একটি ক্যানেল বের হয়ে উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া তিন নং ওয়ার্ড ও একই গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডে আঘাত হানে। এ সময় ক্যানেলটির প্রবল স্রোতে চারটি পরিবারের বাড়িঘর তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সাথে দুই একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। আরো হুমকির মুখে রয়েছে কয়েক একর ফসলি জমি। আবার অনেকেই এসব জমির ধান কেটে গবাদিপশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিস্তা নদীর ভাঙন রোধ করা না গেলে এ গ্রামের লোকজন নিঃস্ব হয়ে যাবেন বলে আশঙ্কা করছেন সেখানকার লোকজন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের দাবি, আমরা ত্রাণ চাই না, অনতিবিলম্বে ভাঙন রোধে সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
 
এদিকে ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর নিজের জমি না থাকায় অন্যের জমিতে বাড়ি করার জন্য ধরনা দিলেও তাদের পক্ষ থেকে সারা না পেয়ে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আবার অনেকেই জোর করে বসতভিটা তৈরি করছেন। বারঘড়িয়া ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম জানান, হঠাত্ করে তিস্তা নদীর ক্যানেল বের হওয়ায় এ গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়নি।
 

ইত্তেফাক/এএন