বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারার আশরাফ আলী রোড সংলগ্ন বেইলি ব্রিজটি জরাজীর্ণ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় পাটাতনগুলো নিয়ে যাচ্ছে এলাকার কতিপয় দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে যোগাযোগের জন্য যে পাকা ব্রিজটি রয়েছে তারও দু-পাশের মাটি সরে গিয়ে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
বর্তমানে এ ব্রিজ দিয়ে বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সর্বসাধারণকে। কিন্তু যে কোনো মুহূর্তে ব্রিজে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানির মতো ঘটনা। অনেক বছর আগের স্টিল ব্রিজটি চলাচলের অযোগ্য হওয়ার পর সবাই বর্তমান পাকা ব্রিজকেই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যমে হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। একদিকে ব্রিজের দু-পাশের মাটি সরে যাওয়া অন্যদিকে গন্ডামারার অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থা।
১৯৯৬ সালে কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁশখালী গন্ডামারা বাজার সেতু নামে এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে উপকূলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের জনগণের যোগাযোগ রক্ষার্থে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকার মধ্যে অন্যতম গন্ডামারায় প্রচুর লবণ উত্পাদন ও চিংড়ি হয়। প্রতিবছর হাজার হাজার টন লবণ এই গন্ডামারায় উত্পাদন হয়। এ ব্রিজের উপর দিয়ে লবণ পারাপার করতে গিয়ে পাটাতনগুলো নষ্ট হয়ে যায়। অপরাপর যন্ত্রাংশগুলো ঠিকমতো থাকলেও নিচের পাটাতনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়ে। অপরদিকে এ ব্রিজের দক্ষিণ পাশে নির্মিত অপর একটি ব্রিজ নির্মিত হলেও এই উঠা নামার সংযোগস্থল ঝুঁকিপূর্ণ এবং যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। বিগত এক বছরে এই ব্রিজের মধ্যে গাড়ি পারাপারে উল্টে গিয়ে শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।
গন্ডামারার ব্যবসায়ী আবু আহমদ বলেন, ব্রিজটি কোনো কারণে ভেঙে পড়লে সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তাই এই ব্রিজ এবং সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।
ইত্তেফাক/এএন
