মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কের অবস্থা নাজুক

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৬, ০২:০৮
মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়ক সংস্কারের নামে প্রায় পাঁচ মাস আগে তোলা হয়েছে সড়কের পিচ। এতে সড়ক জুড়ে বেরিয়েছে ইটের সুরকি আর পাথর। সড়কের বেশির ভাগ জায়গায় ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দে একাকার হয়ে আছে। ফলে চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মুরাদনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কয়েক লাখ মানুষকে। মুরাদনগর উপজেলার সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি আঞ্চলিক সড়কের অবস্থা একেবারেই নাজুক হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়ক। এলাকাবাসীর অভিযোগ- গত মার্চ মাসের শুরুতে কয়েকজন শ্রমিক নিয়োগ করে সড়কটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সৃষ্ট বড় বড় গর্ত পূরণ না করেই মুরাদনগর সদর অংশে বেশ কিছু জায়গায় পিচ তুলে ফেলা হয়। এরপর থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আর কোনো খোঁজ নেই। এতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। পরে গত ঈদুল আজহার আগের রাতে পিচ উঠানো অংশটুকুতে পিচ দেয়া হয়। এরপর থেকে আর খোঁজ নেই। গত প্রায় ১৮ বছরে ওই সড়কে ছোট-বড় শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব সড়কে চলাচল করতে গিয়ে অধিকাংশ সময় বিকল হচ্ছে অনেক যানবাহন।
 
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৮ কি.মি. সড়কের সংস্কার ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। গত ১৬ জানুয়ারি হতে একবছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গড়িমসিতে প্রায় দশ মাসে সড়কের পাঁচ শতাংশ কাজও হয়নি। এদিকে সাব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন জানান, এ সড়কটির দেড় কি.মি. সড়ক কাজে সংযুক্ত থাকায় যে ব্যয় ধরা হয়েছে তা দিয়ে সম্ভব নয়। তাই ব্যয় বাড়ানো হলে কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।
 
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুদ্দিন জানান, সংস্কারের জন্য যে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে তা দু’বছর পর অনুমোদন হয়েছে। দু’বছর আগের সড়কের অবস্থা আর বর্তমানের অনেক পরির্বতন হয়েছে। আর আগের বাজারমূল্যের চেয়ে এখন বাজারমূল্য অনেক বেড়ে গেছে। সড়কটির জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা দিয়ে বর্তমানে করা সম্ভব নয়। তাই ব্যয় বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তা অনুমোদন হয়ে গেছে। আশাকরি অল্প কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে।
 
ইত্তেফাক/এএন