ভালো গ্রহীতাদের ঋণের সুদ কমছে অসাধুদের পেনাল্টি :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৯

যারা ভালো ঋণ গ্রহীতা, ব্যাংকের টাকা নিয়মিত পরিশোধ করে তাদের সুদ হার কমে ৭ শতাংশ হবে। এসব ঋণ গ্রহীতা হয়ত ১০ থেকে ১২ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়েছিল। অন্যদিকে অসাধু ঋণ গ্রহীতাদের পেনাল্টি দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত চলতি বছরের মে মাস থেকে কার্যকর হবে। গতকাল এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। ডাবল ডিজিট থেকে কিভাবে সিঙ্গেল ডিজিটে সুদ হার নামিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে এ বৈঠক হয়। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ভালো ও অসাধু ঋণ গ্রহীতার সংজ্ঞা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমি ১০ বার ব্যাংক থেকে টাকা নিলাম অথচ দিলাম না, আমি কি ভালো? আমি দুইবার টাকা নিলাম দিলাম না আমি ভালো? অথবা ১০ বার এক্সপোর্ট করলাম একবারও টাকা ব্যাংকে ঢুকালাম না তারা কি ভালো? এরা অসাধু এদের খুঁজে বের করে প্যানাল্টির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরো বলেন, তবে যারা ব্যাংকের টাকা নিয়ে ভালো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন এবং নিয়মিত টাকা পরিশোধ করেন তাদের জন্য সুদ কমানো হবে। ছোট ঋণ গ্রহীতা ও বড় ঋণ গ্রহীতারা ২ শতাংশ ঋণ পরিশোধ করবেন, বাকি ব্যালেন্সে ৭ শতাংশ সুদ হবে। এসব ঋণে হয়ত ১২ অথবা ১৩ শতাংশ সুদ ছিল। কিন্তু এত সুদ দিতে হবে না সাত শতাংশ সুদ দিলেই হবে। এর আগে অর্থমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, এখন থেকে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের পরিবর্তে সরল সুদ চালু করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী (আবুল মাল আবদুল মুহিত) এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা বসেছিলাম। আমাদের ব্যাংকার লাগবে এর পাশাপাশি ঋণ গ্রহীতাদেরও লাগবে। ঋণ গ্রহীতাদের কোনো বিকল্প নেই। তারাই আমাদের দারিদ্র্য দূর করে এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। তাদের বাদ দিয়ে চলার কোনো উপায় নেই। তাই তাদের কিভাবে সুযোগ সুবিধা দেয়া যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করেছি।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ব্যবসা করলে সারা জীবন লাভ হবে না। ব্যবসায়ীরা অনেক কষ্ট করেন। কখনো তারা লোকসানের মুখে পড়েন। ব্যবসায়ীদের লাভ হলে সরকার খুশি হয়, কারণ সরকার ট্যাক্স পায়, দেশে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে যখন ব্যবসায়ীদের লোকসান হয় তখন সরকার থেকে তারা তেমন সুযোগ সুবিধা পায় না। আমরা এসব ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করতে চাই।

ঋণ গ্রহীতাদের প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, ঋণ গ্রহীতা দুই ধরনের আছে এক ভালো ঋণ গ্রহীতা দুই অসাধু ঋণ গ্রহীতা। ভালো ঋণ গ্রহীতাকে সুযোগ দেব অসাধু ঋণ গ্রহীতাকে জরিমানা করব। ভালো ঋণ গ্রহীতাকে নানাভাবে সুযোগ সুবিধা দেব। যারা ভালো ঋণ গ্রহীতা তাদের সুদ কমিয়ে দেব। তাদের ঋণে সুদের হার হবে সাত শতাংশ। আমরা বার বার বলেছি ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসব এটা দিয়ে শুরু করতে চাই। সব ভালো ঋণ গ্রহীতা তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ সুদ ৭ শতাংশ। যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে নিয়মিতভাবে পরিশোধ করেছেন। যারা টাকা নিয়ে ব্যাংকে পরিশোধ করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু ফেল করেছেন। তাদেরও সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।