জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক ঘণ্টা ধরে অবস্থান করেও জরুরি ও বহির্বিভাগে কোনো চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়নি। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সহকারী আবদুল মজিদ রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছিলেন। আর এলএমএসএস আবদুল খালেককে দেখা গেল এক রোগীর পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিতে।
বহির্বিভাগে দেখা গেল, চিকিৎসা সহকারী নাজমুল ইসলাম ও আশরাফুদৌল্লা রোগী দেখছেন। তখন শিশু বিশেষজ্ঞ মনিরুজ্জামান মানিকের কক্ষের সামনে শিশু রোগীদের কোলে নিয়ে অভিভাবকরা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আক্কেলপুর পৌর শহরের বিহারপুর মহল্লার আবদুর রশিদের স্ত্রী খালেদা আখতার বলেন, ‘আমার ১৭ মাস বয়সী ছেলে আকাশ অসুস্থ। তাকে নিয়ে সকাল সাড়ে নয়টায় হাসপাতালে এসেছি। তখন থেকে বাচ্চা কোলে ডাক্তারের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছি। এখনো সিরিয়ালে আমি নাকি আসিনি।’
জরুরি বিভাগে কর্মরত আবদুল মজিদ বলেন, ‘আরএমও সোহেলী সুলতানা ম্যাডাম আজ জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের দায়িত্বে আছেন।’
অন্তর্বিভাগে গিয়ে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সোহেলী সুলতানাকে পাওয়া গেল। তিনি বলেন, ‘আমাকে একা জরুরি ও অন্তর্বিভাগ সামলাতে হচ্ছে। যখন জরুরি বিভাগে যাচ্ছি, তখন অন্তর্বিভাগ খালি থাকছে। কোনটা সামলাব?’
তিনি আরো জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিল্পনা কর্মকর্তা রাধে শ্যাম আগরওয়ালা গেছেন ২১ দিনের ছুটিতে। মনিরুজ্জামান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। কিন্তু এখানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ চিকিৎসক আছেন মাত্র ছয়জন। এর মধ্যে আবার সাবরিনা করিম নামের এক চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। বাস্তবিক অর্থে এখন পাঁচজন চিকিৎসক আছেন। এই পাঁচজনের মধ্য থেকে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাধে শ্যাম আগরওয়ালা অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২১ দিনের ছুটি নেন। মনিরুজ্জামান ওই পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সোহেলী সুলতানা আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসা কর্মকর্তা সুমনা বসাক ও সুদীপ্ত জরুরি ও বহির্বিভাগে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ এনায়েত হোসেন বলেন, ‘শুধু জরুরি বিভাগেই তিনজন চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন। অথচ গোটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছেন মাত্র তিনজন। প্রতি মাসেই সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চিকিৎসকের চাহিদা পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না।’
ছুটিতে থাকা রাধে শ্যাম আগরওয়ালা মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।’
জয়পুরহাট জেলা সির্ভিল সার্জন জসিম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘আমিও আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। সেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি দিয়েছি। খুব শীঘ্রই সমস্যা সমাধান হবে।’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
