নিউইয়র্কে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৬, ১৯:১৭
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৭টি পদে কামাল-রুহুল প্যানেল এবং প্রচার সম্পাদক ও কার্যকরী সদস্য পদে কুনু-আজম প্যানেল জয়লাভ করেছে।
 
এদিকে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিনভর সরগরম ছিল নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলো। তবে এই নির্বাচনে জাল ভোট প্রদান এবং ফল ঘোষণায় কিছু গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় প্রচার সম্পাদক পদে জয়ী প্রার্থীকে পরাজিত ঘোষণা করে পরে চ্যালেঞ্জের মুখে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।  
 
নিউইয়র্কের উডসাইড, জ্যামাইকা, ব্রুকলীন, ব্রঙ্কস ও ওজনপার্কের ৫টি কেন্দ্রে রবিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ হাজার ৫৫১ ভোটারের এই নির্বাচনে ১১ হাজার ১৫৭ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। রাতে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ টিপু সুলতান বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। এই সময় তিন সভাপতি প্রার্থী, নির্বাচন কমিশনের সদস্য এম এ হাকিম, আনোয়ার হোসেন, তপন জামান, ইউনুস সরকারসহ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেলের প্রার্থী এবং সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। 
 
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত ফলাফলে কামাল- রুহুল প্যানেল সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কামাল আহমেদ। তিনি সর্বাধিক ৫ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান সভাপতি আজমল হোসেন কুনু পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৬৬ ভোট। সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান চৌধুরী পেয়েছেন মাত্র ৩০৭ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে রুহুল আমিন সিদ্দিকী পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৮৪ ভোট, তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৭২ ভোট। সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার ৫ হাজার ৪৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে অপর প্রার্থী মো. শাহ নেওয়াজ পেয়েছেন ৫ হাজার ৪২ ভোট। সহ-সভাপতি পদে আবুল খালেক খায়ের ৫ হাজার ৬৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে পরাজিত প্রার্থী শফি আলম লাল পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩২ ভোট। IMG0
 
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ এম কে জামান ৫ হাজার ২৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। পরাজিত প্রার্থী মফিজুল ইসলাম ভুইয়া পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩০ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ আলী ৫ হাজার ৬৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রহিম নিশান পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৭২ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আবুল কালাম ভুইয়া ৫ হাজার ৪৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রফিকুল ইসলাম ডালিম পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৫০ ভোট। সাংস্কৃতিক সম্পাদিক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মনিকা রায়। তার প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৫৯২। এ পদে অপর প্রার্থী সেলিম ইব্রাহিম পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৬ ভোট। প্রচার সম্পাদক পদে সাংবাদিক রিজু মোহাম্মদ ৫১৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার সাথে পরাজিত প্রার্থী সিরাজুল হক জামাল পেয়েছেন ৫১০৬ ভোট। সমাজকল্যাণ  সম্পাদক পদে নাদির এ আইয়ুব ৫ হাজার ৫২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী টিপু খান পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩৪ ভোট। সাহিত্য সম্পাদক পদে ৫ হাজার ৩৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন নাসির উদ্দিন আহমেদ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী  শেখ হায়দার আলী পেয়েছেন ৪৭৯৮ ভোট। ক্রীড়া সম্পাদক পদে সাবেক জাতীয় ফুটবলার সম্রাট হোসেন এমেলিকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন নওশেদ হোসেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৩৬৯। এমিলি পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭২ ভোট। স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদে ৫ হাজার ৪৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আহসান হাবিব। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াহিদ কাজী এলিন পেয়েছেন ৪ হাজার ৭১০ ভোট। 
 
কার্যকরী পরিষদের ৬টি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ফারহানা চৌধুরী, তার ভোট ৫ হাজার ৫৫৫, মইনুদ্দিন মাহবুব ৫ ভোট ৪১৮, আজাদ বাকির, তার ভোট ৫ হাজার ২৯৭, মোহাম্মদ সাদী মিন্টু, তার ভোট ৫২৭৬, আবুল কাশেম চৌধুরী, তার ভোট ৫১০২, সারওয়ার খান বাবু, তার ভোট ৫০৪৩। সদস্য পদে পরাজিত প্রার্থীরা হলেন মনিরুল ইসলাম (৫০২৭), ডাক্তার শাহনাজ (৫০২১), কাজী তোফায়েল ইসলাম (৪৬৬৩), জসীম উদ্দিন (৪৫৩২),  আশরাফ আলী লিটন (৪৪১০) ও খায়ের আকন্দ (৪২৯২)। 
 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই