বদলে যাচ্ছে কৃষি জমির আবাদ পদ্ধতি। আমাদের দেশে যুগ যুগ ধরে গরু আর লাঙল দিয়ে কৃষি জমিতে চাষাবাদ করা হতো। এখন কৃষি কাজে গরুর ব্যবহার নেই বললেই চলে। কাঁধে লাঙল ও গরু নিয়ে কৃষকদের জমিতে যাওয়ার দৃশ্য এখন তেমন একটা চোখেও পড়ে না। এখন গরু লালন-পালন করা হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। বর্তমানে পাওয়ারটিলারের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হচ্ছে। সরকারিভাবেও কৃষি কাজে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারে উত্সাহ দেয়া হচ্ছে। কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে সরকারিভাবে অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত প্রায় এক যুগ ধরে কৃষি কাজে পাওয়ারটিলারের ব্যবহার বাড়তে থাকে। গরু দিয়ে চাষাবাদের জন্য অনেক উপকরণ প্রয়োজন হতো। লাঙল, লাঙলের চোয়াল, জোয়াল, রশি, মই ইত্যাদি। এসব উপকরণ গ্রামের হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি হতো। কৃষি উপকরণ তৈরিতে এক শ্রেণির লোক জড়িত ছিল। তারা এসব উপকরণ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করত। এসব লোক এখন পেশা পরিবর্তন করেছে। তাদের তৈরি কৃষি উপকরণের চাহিদা নেই বললেই চলে। জেলার সাতকানিয়া উপজেলার দ্বীপ চরতি গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন (৬০) বলেন, আমরা সারা জীবন গরু দিয়ে চাষাবাদ করেছি। জ্যোত্স্না রাতেও গরু দিয়ে জমি আবাদ করেছি। কিন্তু এখন পাওয়ারটিলার ব্যবহূত হচ্ছে। এতে জমি তৈরিতে সময় ও শ্রমিক কম লাগছে। আমরা গরু দিয়ে জমি আবাদের ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছি।
জানা যায়, পাওয়ারটিলারের মাধ্যমে ৪০ শতক জমি আবাদ করে ফসল রোপণের উপযোগী করতে প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জমি ফসল রোপণের উপযোগী হয়। আর গরু দিয়ে আবাদ করতে ৩/৪ দিন লাগে। দেশে আগের চেয়ে আরো বেশি গরু লালন-পালন ও মোটাতাজা করণ হচ্ছে। তবে তা কৃষি কাজে ব্যবহার হয় না। এসব গরু কোরবানি অথবা বিভিন্ন উত্সবে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। গাভী পালন করা হচ্ছে দুধের জন্য। চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপজেলায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে ও খামারে গরু লালন-পালন করা হচ্ছে।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আবাদ যান্ত্রিকীকরণ সময়ের দাবি। কারণ কৃষি সহজীকরণ প্রয়োজন। একটি ধান কাটা ও রোপণের যন্ত্র কেনার জন্য ৭০ শতাংশ অর্থ সরকার দিচ্ছে, ৩০ শতাংশ কৃষককে দিতে হচ্ছে। গ্রুপ করেও এসব যন্ত্র কেনা যাচ্ছে। কৃষিযন্ত্র পরিচালনার জন্য আমরা সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। জমি আবাদে গরুর চেয়ে যান্ত্রি বেশি উপযোগী। কারণ এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় গভীরে যাওয়া যায়। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ধান রোপণের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রে ১২ ইঞ্চি গভীরে আবাদের প্রয়োজন। ফলে পাওয়ারটিলারের মাধ্যমে আবাদ করলে পর্যাপ্ত পরিমাণ গভীরে যাওয়া যায়। লাঙ্গল দিয়ে এত গভীরে যাওয়া সম্ভব হয় না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. আবদুচ সোবহান ইত্তেফাককে বলেন, রবি শস্য চাষাবাদে পাওয়ারটিলার ব্যবহার হচ্ছে। চট্টগ্রামে প্রতি উপজেলায় ২/৩টি করে ধান কাটার যন্ত্র রয়েছে। তবে ধান রোপণের যন্ত্র এখনো চট্টগ্রামে ব্যবহার হচ্ছে না। এটি ব্যবহারে কিছু জটিলতাও রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. নাছির উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, জমির ওপর থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত গভীরের মধ্যে জৈব সার ব্যবহারে ভালো উপকার পাওয়া যায়। তবে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে জমির উপরের মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। জমির উপরের অংশের মাটি সরানো হলে ভালো ফলন হয় না।
