বন্দরনগরীর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে : পরিবেশ ও বনমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৬, ০৮:২৯
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, অতীতে তা অনেকাংশে নেওয়া হয়নি। তবে আশার কথা হচ্ছে, ইদানীংকালে চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়নে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বন্দরনগরীর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে।
 
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেসক্লাব কর্তৃক গুণীজন, কৃতী সাংবাদিক ও মেধাবী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলা হচ্ছে অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বাংলাদেশের অন্য অঞ্চল থেকে এই অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য আলাদা। এই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলগুলোর উপর বিশেষ জোর দেওয়া দরকার। রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান যাওয়ার জন্য যেভাবে যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার দরকার ছিল সেভাবে গড়ে ওঠেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই দুই জায়গায় আরো বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা হবে। এতে পর্যটনের বিকাশ হবে। দেশি এবং বিদেশিদের জন্য বিশেষ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, সবার আগে নিজের দেশকে ভালোবাসতে হবে। নিজ এলাকাকে জানতে হবে, এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সংস্কৃতি ও  মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। তাহলে প্রত্যেক এলাকা আলাদাভাবেও   অনেক এগিয়ে যাবে। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভাষাসৈনিক ও কলামিস্ট মিঞা আবু মোহাম্মদ ফারুকী (মরণোত্তর), চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন, উপমহাদেশের প্রখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম, কৃতী সাংবাদিক- ‘দৈনিক নয়া বাংলা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মরহুম আবদুল্লাহ আল ছগীর (মরণোত্তর), ‘দৈনিক পূর্বদেশ’র সাবেক নির্বাহী সম্পাদক ও ‘দৈনিক পূর্বকোণ’র সাবেক বার্তা সম্পাদক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি অঞ্জন কুমার সেন, ‘দৈনিক সত্যবাণী’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এসএম আতিকুর রহমান ও ‘দৈনিক আজাদী’র সিনিয়র সম্পাদনা সহকারী মো. নূর সুলতান কুতুবীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সদস্যদের ৩০ জন মেধাবী সন্তানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী সকল সংবর্ধিত অতিথি, তাদের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। তিনি প্রেসক্লাবের এই অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানর জন্য চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয় ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান হয়।
 
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সারওয়ারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথিরা বক্তব্য রাখেন। অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী আবুল মনসুর, সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, সাংবাদিক ফারুক ইকবাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
 
চট্টগ্রাম জেপির সংবর্ধনা
 
প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে গতকাল বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম সিটি গেট হয়ে চট্টগ্রাম নগরে প্রবেশ করেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী। এ সময় সিটি গেট থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দিয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নিয়ে আসে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতা-কর্মীরা। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পৌঁছলে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তাঁকে সংবর্ধনা জানান। এ সময় জেপি প্রেসিডিয়াম সদস্য সালাহউদ্দিন মাহমুদ, জেপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আজাদ দোভাষ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নাছিরুল আলম, যুগ্ম দফতর সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী,  প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার, কেন্দ্রীয় যুব সংহতির সভাপতি এম এ কাইয়ুম, চট্টগ্রাম মহানগর জেপির আহবায়ক আজাদ দোভাষ, সদস্যসচিব, ডা. বেলাল মৃধাসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
 
ইত্তেফাক/এএন