লোককবি রাধারমণের গান নিয়ে শিল্পকলায় শুরু হয়েছে তিনদিনের উত্সব। তার তিরোধান দিবস উপলক্ষে গতকাল শিল্পকলার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এ উত্সবে রাধারমণের কীর্তন, দেহতত্ত্ব, ধামাইল ও ভাটিয়ালী গান গেয়ে শোনান শিল্পীরা। উত্সবে ঢাকা, সিলেট, মৌলভীবাজার, নবীগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন। যৌথভাবে অষ্টমবারের মতো এ উত্সবের আয়োজন করেছে শিল্পকলা একাডেমি ও রাধারমণ সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র। সহযোগিতা করছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সোনালী ব্যাংক ও গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স।
গতকাল বিকেলে উত্সবের উদ্বোধন করেন শ্রীহট্টের প্রবীণ শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস। উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সংস্কৃতি সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্বজিত্ ঘোষ ও জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সি এম তোফায়েল বারী। আলোচক ছিলেন সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি তপন মাহমুদ ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী। রাধারমণ সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্রের সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ডা. হারিসুল হক ও বিশ্বজিত্ রায়। সংবর্ধনা প্রদান করা হয় রাধারমণের গানের দুই প্রবীণ শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস ও শাহ মোঃ ছুরত মিয়াকে।
অনুষ্ঠানে একক কণ্ঠে দীপ্তি রাজবংশী গেয়ে শোনান ‘বাঁশীরে পরানের বাঁশী’ ও ‘ভ্রমর কইও গিয়া’, চন্দনা মজুমদার ‘শ্যাম দাও আনিয়া বৃন্দে গো’ ও ‘এহন মায়ার কান্দন আর কাইন্দো না’, শাহনাজ বেলী ‘যুগল মিলন হইল গো’ ও ‘পিরীতি বিষম জ্বালা’, আবুবকর সিদ্দিক ‘যাওরে ভ্রমর উড়িয়া’ ও ‘কারে দেখাবে মনের দুঃখ রে’, সন্দীপন ‘শ্যামকালিয়া সোনা বন্ধুরে’ ও ‘ওরে আইজ কেনরে প্রাণের সুবল’, লাভলী দেব ‘সারানিশি কই ছিলায়রে রসরাজ’ ও ‘আমায় পাগল করলো গো’, খায়রুল ইসলাম ‘জলে যাইও না গো রাই’ ও ‘আমি ডাকি কাঙালিনী’, সুতপা রায় ‘মনে নাই গো আমারে বন্ধুয়ার’ ও ‘পাষাণ মনরে বুঝাইও’, মানিক ‘পূর্বে তোমার যে ভাব ছিলরে’ এবং সালাম ‘নিশীথে জাগিয়া’। সৃজ্যোতি রায় ও সৃজন রায় দ্বৈত কণ্ঠে গেয়ে শোনান ‘কুঞ্জ সাজাও গিয়া’। সম্মেলক কণ্ঠে রাধারমণ সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্রের শিল্পীরা ‘সুরধ্বনীর কিনারায় সোনার’ ও ‘সজনী তোরা জল আনিতে যাবেনি’ এবং মরমী লোকগীতি শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা ‘আমার বন্ধু দয়াময়’ ও ‘আমি রবোনা রবোনা গৃহে’ পরিবেশন করেন। ছিলো নৃত্যও। স্বপ্নবিকাশ কেন্দ্রের নৃত্যশিল্পীরা ‘আসবে শ্যাম কালিয়া’ ও আঙ্গীকাম ললিতকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পী ‘সুরধ্বনির কিনারায়’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন।
আজ শুক্রবার উত্সবের দ্বিতীয় দিনে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন সিলেট, মৌলভীবাজার, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের শিল্পীরা। কাল শনিবার সমাপনী দিনে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুরের শিল্পীরা।
