শিক্ষক স্বামীকে মরণ ক্যান্সার থেকে বাঁচাতে স্ত্রীর আকুতি

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৬, ১৬:৫৯
 
দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাজে মগ্ন তিনি। নিজেকে দেয়ার মতো একটুও সময় নেই তার। কর্মব্যস্ত জীবন থেকে কিছু সময় সামাজিক কাজের জন্যও ব্যয় করেছেন। অসহায় দুস্থদের জন্য গড়ে তুলেছেন ‘এফএইচএলই’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন। কাজ করেছেন সমাজের বঞ্চিত মানুষের জন্য। কিন্তু আজ মরণব্যাধির কাছে সব কিছু হারিয়ে নিজেই শামিল হলেন নিঃস্বদের কাঁতারে।
 
কাজকে যিনি ভালোবাসতেন, কাজের সঙ্গে যার সখ্যতা, তিনি এখন একেবারেই কর্মবিমুখ। হাসপাতালের বেডে শুয়ে থেকেই পার করছেন দিনের পুরো অংশ। মরণব্যাধি ‘ব্লাড ক্যান্সার’ ঝাঝড়া করে ফেলেছে তার পুরো শরীর। এখন শুধু একটু বাঁচার আকুতি।
 
নিজের থাকা সব সহায় সম্বল খুইয়েছেন এ ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে। কিন্তু মুক্তি পাননি। এখন বাঁচার যে আকুতি সেটি হয়তো বাস্তবে রূপ দিতে হাত বাড়িয়ে দেবে কোনো হূদয়বান ব্যক্তি এমনটাই আশা তার।
 
বলছিলাম, রাজধানীর হাজারিবাগের বাসিন্দা হাফিজুল ইসলামের কথা। জীবনের সংক্ষিপ্ত সময়ে শিক্ষার আলোও ছড়িয়েছেন এ ব্যক্তিটি। হাজারিবাগেই ‘বাংলাদেশ ক্যাডেট একাডেমি’ নামে একটি বেসরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। পাশেই ‘আহসান একাডেমি’ নামের আরেকটি একাডেমিক কোচিং সেন্টার। স্ত্রী ফাতেমা আক্তার তার এ অভিযাত্রার সঙ্গী।
 
এক সন্তানের জনক হাফিজুল ইসলাম ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলের ‘এইচডিইউ’তে ডা. এম এ খানের অধীনে চিকিত্সাধীন। এখানকার ৪ নম্বর বেডে যেন এখন মৃত্যু প্রহর গুনছেন তিনি। নিজের জমানো টাকাসহ আত্বীয় স্বজন থেকে পাওয়া সাহায্য দিয়ে ইতোমধ্যে দেশের নামীদামি হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছেন। এখানকার ডাক্তারদের পরামর্শে ভারতের মাদ্রাজ থেকেও চিকিত্সা নিয়েছেন। কিন্তু অথের্র টানাপোড়েনে পুনরায় দেশে এসে ঢাকা মেডিকেলে চিকিত্সা নিচ্ছেন।
 
স্ত্রী ফাতেমা জানিয়েছেন, ডাক্তাররা বলছেন হাফিজকে বাঁচাতে হলে তার বোন মেরু পুনঃস্থাপন করতে হবে। যেটি বাংলাদেশে নয় ভারতে গিয়ে করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ২৫ লাখ রুপী। এছাড়া অন্যান্য চিকিত্সা করাতে তার প্রায় ৮ লাখ রূপী লাগবে (যা বাংলাদেশি টাকায় সর্বমোট ৩৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮৬ টাকা)। সঙ্গে ৬ মাস ভারতে থেকে চিকিত্সা নেয়ারমতো প্রস্তুতি থাকতে হবে পরিবারের। যদিও এতো টাকা খরচ করে স্বামীর চিকিত্সা করা ফাতেমা আক্তারের কাছে স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। তবুও স্ত্রীর আশা দেশের হূদয়বান ও বিত্তবান ব্যক্তিরা তার স্বামীকে মৃত্যু হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেন। সঙ্গে মানুষের সহনুভূতি ও আল্লাহর রহমতে চিকিত্সায় পরাজিত হবে মরণব্যাধি ক্যান্সার।
 
ফাতেমা আক্তার বলেন, স্বামীকে বাঁচাতে আমি ইতোমধ্যে সব সম্বলই খুইয়েছি। সাহায্য নিয়েছি নিকটাত্বীয়দের কাছ থেকেও। কিন্তু এখন আমার হাতে আর কোনো পথ নেই। আশা করি দেশের বিত্তবান লোকজন আমার স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসবেন।

যদি কোনো হূদয়বান ব্যক্তি হাফিজুল ইসলামের চিকিত্সায় হাত বাড়িযে দিতে চান তাহলে হাফিজুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট-১৫৩৬২০১৬৩২৩৮৪০০১ (ব্রাক ব্যাংক, হাজারিবাগ শাখা) এ পাঠাতে পারবেন। এ অ্যাকাউন্টের মালিক হাফিজুল ইসলাম। এছাড়া তার বিকাশ নম্বরেও পাঠাতে পারবেন আর্থিক সহযোগিতা। বিকাশ অ্যাকাউন্ট ০১৮১৩৬১৩৪১০।