সিলেট রেল স্টেশনে মঙ্গলবার রাতে সেনাবাহিনীর সদস্য ও রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে।
রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে উদয়ন এক্সপ্রেসে জালালাবাদ ক্যান্টমেন্টের সদস্যরা চট্রগ্রাম যাওয়ার জন্য ২৬টি টিকেট কিনতে যান। এ সময় তাদেরকে ২০টি টিকেট দেয়া হয়। কিন্ত তারা বগিতে উঠে দেখেন তাদেরকে শুভন টিকেট দেয়া হয়েছে। তাদেরকে কেন আরো ছয়টি টিকেট ও শুভন চেয়ার দেয়া হলো না এমন প্রশ্নের জবাবে স্টেশন কর্মকর্তারা জানান, অন্যান্য টিকেট আগেই অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রয় হয়ে যায়।
বিষয়টি সেনাবাহিনীর সদস্যরা মেনে নিতে পারেননি। এক পর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে স্টেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের বাক্বিতণ্ডা ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় স্টেশনের তিন কর্মকর্তা আহত হন। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। এ ঘটনায় আহত সিলেট রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, স্টেশন মাস্টার কাজী শহীদুল ইসলাম ও সহকারী স্টেশন মাস্টার আবু তাহের নাসেরকে রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্টেশনের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে থাকলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে এবং চট্রগ্রামগামী ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যেতে দেয়নি শ্রমিকরা। খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক র্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
পরে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন, জালালাবাদ সেনানিবাসের সিনিয়য়র অফিসার, সিলেটে এসএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার বাসুদেব বণিকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পুলিশ জানায়, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনার জন্য দায়ী সদস্যদের সেনা আইনে বিচারের আশ্বাস দেন। এবং তাদের যাত্রা বাতিল করে তাদেরকে ক্যান্টনমেন্টে ফিরিয়ে নেন। কর্মকর্তারা আহত স্টেশন কর্মকর্তাদের দেখতে হাসপাতাল যান।
এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে চট্রগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস মঙ্গলবার রাতে দুই ঘণ্টা বিলম্ব করে রাত ১১ টা ২০ মিনিটে সিলেট থেকে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। একই কারণে উপবন এক্সপ্রেস দুই ঘণ্টা বিলম্ব করে রাত ১২টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
