যশোরের মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি নেতার লাশ মিলল বুড়িগঙ্গায়

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৪৭

যশোরে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু বকর আবুর লাশ মিললো বুড়িগঙ্গা নদীতে। ১২ নভেম্বর তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। নিহত আবু বকর আবু যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বুড়িগঙ্গা নদীর পীরেরবাগ এলাকা থেকে পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ‘সেখানে নৌকার ওপর শোয়ানো মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ দেখা যায়। পোস্টে লেখা হয়, ‘অজ্ঞাতনামা মুসলিম পুরুষ, বয়স অনুমান ৫০ বছর, এর মৃতদেহ বুড়িগঙ্গা নদীতে পাওয়া গিয়াছে, পরনে সাদা পায়জামা, সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি।’ বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ফেসবুক পেজে এটি দেখে আবু বকর আবুর লাশ শনাক্ত করেন দলীয় নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে রবিবার রাতে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার মেট্রোপলিটন আবাসিক হোটেল থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। মুক্তিপণ দেওয়ার পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার ও কর্মী-সমর্থকরা উদ্বেগ উত্কণ্ঠার মধ্যে ছিলেন।

যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ১৮ নভেম্বর আবু বকর আবু নিখোঁজ হন। বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধার করা লাশটি আবু বকরের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, আবু বকরের ভাগ্নে আশিকুজ্জামান ও ভাতিজা হুমায়ুন কবির রাজধানীর মিটফোর্ড মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

আবু বকর আবু টানা ২০-২২ বছর যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চিরকুমার আবু তার এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে। মজিদপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানও তিনি। এর আগেও তিনি ওই ইউনিয়নে তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু বকর আবু গত ১২ নভেম্বর ঢাকায় পৌঁছেন। ১৯ নভেম্বর সাক্ষাত্কার বোর্ডে অংশ নেওয়ার জন্য পল্টন এলাকার মেট্টোপলিটন হোটেলে চতুর্থতলায় ৪১৩নং রুমে অবস্থান করছিলেন। ১৮ নভেম্বর রাত ৮টার পর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। পরে রাত ১০টার দিকে একটি মোবাইল ফোন থেকে কেশবপুরে অবস্থানরত তার এক ভাগ্নের কাছে ফোন দিয়ে তার মামার জন্য দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ১৯ নভেম্বর সকালে অপহরণকারীদের দেওয়া বিভিন্ন নম্বরে দেড় লাখ টাকা বিকাশ করা হয়। পরে তাদের চাহিদা অনুযায়ী আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর থেকে অপহরণকারীদের সব মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে আবু বকরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহূত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।

ঢাকায় অবস্থানরত তার ভাতিজা হুমায়ূন কবির জানান, তার চাচা নিখোঁজের ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। এরপর থানা পুলিশের একটি দল হোটেলে গিয়ে সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। তবে এখনো এ ব্যাপারে থানায় কোনো জিডি বা মামলা রেকর্ড হয়নি বলে ঢাকায় অবস্থানরত তার ভাগ্নে আশিকুর রহমান জানান।

শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, গত ১২ নভেম্বর আবু বকর যশোর থেকে ঢাকায় এসে হোটেল মেট্রোপলিটনের একটি কক্ষে ওঠেন। ১৪ নভেম্বর তিনি হোটেল থেকে চলে যান। ১৫ নভেম্বর আবার হোটেলে ওঠেন। হোটেলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী তিনি ১৮ নভেম্বর রবিবার রাত ৮ টা ৩৪ মিনিটে হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। হোটেলের লিফটের সামনের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার এক হাতে একটি ব্রিফকেস ও অপর হাতে লাগেজ ছিল। নিখোঁজের ঘটনায় শাহবাগ থানায় দেওয়া অভিযোগটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ শাফিউর রহমান মিজান বলেন, তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তার নিখোঁজের ব্যাপারে শাহবাগ থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।