গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের মাহিলাড়া-ছয়গ্রাম ও বিল্বগ্রাম-জঙ্গলপট্টি এলাকার প্রায় ৭ কি.মি. বেড়ি বাঁধ সড়কের দু’ পাশের সরকারি বনায়ন প্রকল্পের গাছ কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি গাছ লুটের সঙ্গে জড়িত। তারা গত দু’ সপ্তাহে অর্ধ কোটি টাকার সরকারি গাছ কেটে নিয়ে গেছেন। শুধুমাত্র গাছ কেটেই তারা ক্ষান্ত হননি, সড়কের পাশের মাটি খুঁড়ে গাছের শিকড় পর্যন্ত তুলে নিয়ে গেছেন। ফলে ওই সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে এলজিইডির ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন সেক্টর প্রকল্পের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া কলেজ থেকে ছয়গ্রাম হাট পর্যন্ত ৪ কি.মি. ও বিলগ্রাম হাটের ব্রিজের কাছ থেকে জঙ্গলপট্টি মাদ্রাসা পর্যন্ত ৩ কি.মি. পর্যন্ত মোট ৭ কি.মি. বেড়ি বাঁধের দু’ পাশে এ সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ওই সময় মাহিলাড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতি লি. এর সভাপতি ও মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মো. আনোয়ার হোসেন রাঢ়ী সমিতির ৪০৫ জন সদস্য নিয়ে ওই সড়কের দু’ পাশে বিভিন্ন জাতের ৭ হাজার গাছের চারা গাছে রোপণ করেন। চুক্তিতে গাছ সমিতির সদস্যরা গাছ বিক্রির সময় ৫৫ শতাংশ, জমির মালিক ৩০ শতাংশ সরকারি রাজস্ব খাতে ১০ শতাংশ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ৫ শতাংশ টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সমিতির ৪০৫ জন সদস্য এই সামাজিক বনায়নের বড় অংশের মালিক হওয়া সত্ত্বেও আমাদের না জানিয়ে ১৫/২০ দিন আগে থেকে মাহিলাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর নির্দেশে বিল্বগ্রাম এলাকার গোপী রায়, জীবন পাল, প্রেমা পাল, বিপ্লব পাল, সুকণ্ঠ পাল, সুশীল পাল, বড় জীবন পাল, রশিদ খান ও সুজন নন্দীসহ বেড়ি বাঁধের পাশের লোকজন প্রায় ৪ হাজার গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। চেয়ারম্যান পিকলু ইউনিয়ন পরিষদের কথা বলে গাছ বিক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। তবে গাছ বিক্রেতারা এ ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ।
এদিকে চেয়ারম্যান পিকলু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আনোয়ার হোসেন রাঢ়ীর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটাচ্ছেন। আমি কারো কাছ থেকে গাছ বিক্রির টাকা নেইনি বরং অনেক কাটা গাছ জব্দ করেছি এবং গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছি।
গৌরনদী উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মনীন্দ্রনাথ হালদার বলেন, সড়কের গাছ কেটে নেয়ার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।
উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/এএন
