নওগাঁয় ভূমিহীনদের ৪০ ঘরে অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৯, ২৩:০৮

নওগাঁর ধামইরহাটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ও মুসলমানদের ৪০টি বসতঘরে হামলা, ভাংচুর ও পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নৃগোষ্ঠির ৬ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। রবিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রামের কাগজকুটা গ্রামের পুকুর পাড়ে এই ঘটনা ঘটে। হামলাকারিদের কাউকে আটক করতে পারেনি ধামইরহাট থানা পুলিশ। তবে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে। অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনাটি জানতে পেরে বিজিবি-১৪ পত্নীতলার ব্যাটালিয়নের বস্তাবর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনা স্থলে যায়। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনেকেই খোলা আকাশের নীচে অবস্থান নিয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জায়গাটি একই এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকী নামে এক ব্যক্তি উপজেলা ভূমি অফিস থেকে লীজ নেন। বস্তাবর গ্রামের মোশারফ হোসেন নামে এক আওয়ামীলীগ নেতার দাবি, তিনি চার বছর আগে কাগজকুটা পুকুরসহ তিন বিঘা জমি কিনে নেন। তবে ওই জায়গা সরকারি খাস সম্পত্তি দাবি করে কয়েক মাস আগে এলাকার ভূমিহীন ৪০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ও মুসলিম পরিবার টিনের ছাউনি এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘর তৈরী করে বসবাস শুরু করে। এ ঘটনায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায় রবিবার মধ্যরাতে ঘুমন্ত ওই পরিবারগুলোর উপর শতাধিক লোকজন হামলা চালায়। এ সময় পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। অগ্নিসংযোগে ধান, চাল, কাপড় চোপড়, হাঁস-মুরগী, ছাগল, নগদ টাকা ও জিনিসপত্র পুড়ে যায়। তারা এই হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেন ও তার সমর্থকদের দায়ি করেছে। ঘটনার শিকার মনোয়ারা বেগম বলেন, সন্ত্রাসীরা ধারালো হাসুয়া, কুড়াল, তীর ধনুক, লাঠি ও পেট্রোল নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তাদের ব্যাপক মারপিট করাসহ বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে, শান্তি পাহান জানান, তাদের চিত্কার ও আগুনের লেলিহান শিখায় স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। একারণে তারা প্রাণে বেঁচে যান। হামলায় শান্তি পাহানের হাত ভেঙ্গে যায় এবং তার ৫ বছরের ছেলে আকাশসহ ৬/৭ জন আহত হয়েছে।

ওই জমির দাবীদার মোশারফ হোসেন বলেন, ওই জমিটি আমাদের দলিলকৃত।  কতিপয় লোক অবৈধভাবে এটি দখলের জন্য ছোট ছোট ঘর নির্মাণ করে। বিষয়টি নিয়ে চলতি মাসের ১০তারিখে ধামইরহাট থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই জমিতে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আদালতের আদেশ অমান্য করে তারা বসতবাড়ী নির্মাণ করেছে। তবে ওইসব বাড়ীঘরে তিনি বা তার কোন লোকজন আগুন দেয়নি বলে দাবি করেন।  বিজিবি-১৪ পত্নীতলার ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে: কর্ণেল খিজির খান জানান, ঘটনাটি দেখতে পেয়ে বস্তাবর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনা স্থলে যান। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

ধামইরহাট থানার ওসি জাকিরুল ইসলাম বলেন, ওই সম্পত্তি ব্যক্তিগত। কিছু লোক জোর করে বাড়িঘর তৈরী করে। এ নিয়ে একাধিক মামলা রয়েছে। আগের মামলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির দুই জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে আগুন লাগানোর ঘটনায় কেউ মামলা করেনি। মামলা হলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গণপতি রায় বলেন, ওই সম্পত্তি কি অবস্থায় আছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।