সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) শিক্ষার্থী আফনানকে বাস চাপা দিয়ে ‘হত্যা’র প্রতিবাদে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা। এরপর বিকালে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। সিকৃবি বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সহকারী অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম বলেন, ওয়াসিম হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আমরা ২৭ মার্চ পর্যন্ত সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করেছি। এই হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনি পদক্ষেপ হিসাবে সোমবার বিকালে মৌলভীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
মামলায় গাড়ির চালক মো. জুয়েল (২৬), হেলপার মাসুক মিয়া (৩৮) ও সুপারভাইজার সেবুলকে আসামি করা হয়। এজাহারে ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে ওয়াসিমকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলা হয় মর্মে অভিযোগ আনা হয়। এজাহার দায়েরকালে ওয়াসিমের সঙ্গে ওই বাসে থাকা সিকৃবির ১০ শিক্ষার্থীও থানায় উপস্থিত ছিল। মৌলভীবাজার সদর থানার ওসি সুহেল আহাম্মদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইতোমধ্যে দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে। তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত উদার পরিবহনের বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যার দিকে ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে ‘উদার পরিবহন’ এর একটি বাস থেকে সিকৃবি শিক্ষার্থী ওয়াসিমকে বাসের হেল্পার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ওয়াসিমের বন্ধুরা জানায়, হেল্পার মাসুক মিয়া তাদের কাছে ১০০ টাকা ভাড়া দাবি করলে সবাই তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে নেমে যায়। নামার সময় পেছন থেকে বাসের হেল্পার তাদের গালিগালাজ করতে থাকে। ওয়াসিম ফিরে এসে বাসের সিঁড়িতে উঠে হাতল ধরে ঝুলে তাদের কেন গালি দিল তা জিজ্ঞেস করে। এসময় চালক গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়। তখন সহকারী মাসুক মিয়া ওয়াসিমকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিলে বাসের পেছনের চাকার নিচে পড়ে ওয়াসিম গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।
