লোক দেখানো সার্চ কমিটি করে লাভ নেই: এ টি এম হুদা

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৬, ১৯:৪৫
 
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এ টি এম শামসুল হুদা বলেছেন, লোক দেখানো সার্চ কমিটি করে লাভ নেই। আগামী ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। তাই ভালো কিছু করার ইচ্ছা থাকলে এখনই কাজ শুরু করতে হবে। সংবিধানে ইসি নিয়োগে আইন করার কথা থাকলেও কোনো রাজনৈতিক দলই নিজেদের জন্য বিষয়টা সুবিধাজনক মনে করে না। তাই এখনো আইনটি হয়নি।
 
শনিবার সকালে এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির (ডিএফডি) ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্টে বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ ও একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের লক্ষ্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে জোরালো আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন নাকি প্রার্থীসহ জনগণের ভূমিকা বেশি’ শীর্ষক এক পাবলিক পার্লামেন্ট বিতর্ক আয়োজন করে ডিএফডি।
 
ডিএফডির সভাপতি হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে এটিএম হুদা বলেন, রাজনৈতিক দল সমূহের ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনঃগঠন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে আগামীতে সুষ্ঠু একটি নির্বাচন হওয়া জরুরি। নির্বাচন কমিশন, বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক দলসমূহের যে আস্থার অভাব রয়েছে তা দূর করা প্রয়োজন। আমাদের নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ভারতের নির্বাচন কমিশনের চেয়ে বেশি হলেও আমরা ভারতের মতো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারছি না। আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য ভাল একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হলে এখনই কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
 
তিনি বলেন, লোক দেখানো সার্চ কমিটি গঠন না করে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য অনেক যোগ্য ও দক্ষ লোক রয়েছে; তাঁদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। সার্কভুক্ত দেশসমূহের নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেপাল ও পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনও আমাদের চাইতে ভাল নির্বাচন আয়োজন করে আসছে। সাংবিধানিক নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইনী-কাঠামো থাকা খুবই জরুরী। তাহলে কমিশন গঠন নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক কমে আসবে।
 

ইত্তেফাক/এএম।