নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, নদী রক্ষায় বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গঠন করা হয়েছে নদী রক্ষা কমিশন। আওয়ামী লীগ ছাড়া কোন সরকার একটি ড্রেজারও ক্রয় করেনি।
রবিবার দুপুরে খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত বিআইডব্লিউটিসি’র কন্টেইনার ভেসেল ‘এমভি উত্তরণ এক্সপ্রেস’এর লঞ্চিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেন, মংলা বন্দরে বিএনপি’র শাসনামলে সাড়ে ১১ কোটি টাকা লোকসান হয়। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সেই লোকসান কাটিয়ে গত বছর মংলা বন্দর ৬৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। সেখানে নিজস্ব ড্রেজার দিয়ে নদী খননের ফলে এখন বড় বড় জাহাজ আসছে। বর্তমানে ১১০টি জাহাজ চলাচল করছে মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলে। সরকারের সময়োচিত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে মাওয়াসহ দেশের ফেরিঘাট ও ফেরিসমূহের ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে, যার সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে। দেশের যে সকল জায়গায় ফেরি স্থাপন করলে জনগণের সুবিধা হবে সেখানে ফেরি স্থাপনের কথা ভাবছে সরকার।
তিনি বলেন, একাত্তর সালে দেশের জনগণকে এবং ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে তারা পাপী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে সমস্ত খুনিদের বিচার করে পাপ মোচন করেছেন। এ জন্যই দেশে এখন উন্নয়ন হচ্ছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে, বিদ্যুতের ঘাটতি কাটিয়ে দেশে এখন ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বিভিন্ন রাষ্ট্র বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা স্বীকার করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের আগেই এদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
তিনি খুলনা শিপইয়ার্ডের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে বলেন, শিপইয়ার্ডের নিজস্ব ড্রেজার না থাকলে খুলনাতেও জাহাজ আসত না। মন্ত্রী আগামীতে বিআইডব্লিউটিসি’র ফেরিসহ অন্যান্য কাজ খুলনা শিপইয়ার্ডের মাধ্যমে করানোর ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান এবং বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান। অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (এম) রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এ এম এ আবেদীন। স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা শিপইয়ার্ডের (খুশিলি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর কে কামরুল হাসান। এ সময় উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ই্ত্তেফাক/এমআই
