কটিয়াদীতে শিক্ষার দ্যুতি ছড়াচ্ছেন সুজিত মাস্টার

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৬, ০০:৩৫
মানুষ গড়ার কারিগর হলেন শিক্ষক, সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শুধু ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়েই আছেন একজন ত্যাগী শিক্ষক সুজিত সাহা। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানো। স্কুল সময়ে তো নিয়মিত পাঠদান আছেই। ছুটির পরও থাকেন তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে স্কুলে।
 
পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তিনি ইংরেজি পড়ান। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনি কোনো টাকা নেন না। তাদের শিক্ষায় মনোনিবেশ করাতে তিনি শ্রেষ্ঠ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উপহার দেন। তাছাড়া ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য নিজ পকেটের টাকা খরচ করেন নির্দ্বিধায়। শুক্রবারই সকাল ১০টায় কটিয়াদী এক নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ ছাত্র-ছাত্রীতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ থাকে। তাদেরকে আগামী পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী ও বৃত্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করছেন।
 
সুজিত সাহা ১৯৮২ সালে এসএসসি, ৮৪ সালে এইচএসসি এবং ৮৭ সালে বিএ পাস করেন। পরে এমএসসি করেন ঢাকা কলেজ থেকে। জীবনে অনেক সরকারি চাকরির সুযোগ থাকলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। তাহেরা নূর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ৯৪ সালে। প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০০০ সালে যোগদান করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তার স্কুল থেকে ২২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী বৃত্তি লাভ করেছে। তার ছাত্ররা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।
 
তিনি বলেন, এখন আমার বয়স ৫০। বাকি দিনগুলোও কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের নিয়েই কাটিয়ে দেবো।
 
ইত্তেফাক/এএন