বাংলাদেশের গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র চত্বরে ‘গণহত্যা হাড়ের এই ঘরখানি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শহীদ সন্তান সাংবাদিক জাহিদ রেজা নূর। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম প্রমুখ।
এসময় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ২৫ মার্চ এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে অনেক গণহত্যার পর আমরা এই দেশটি পেয়েছি। আজকে একটা চেষ্টা হচ্ছে আন্তর্জাতিকভাব এই গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়ার। আমি কোনো গণহত্যাকে ছোট করে দেখতে চাই না। কিন্তু একথা বলতে পারি আমাদের চাইতে কমসংখ্যক লোক মারা গেছে এরকম গণহত্যাকেও আন্তর্জাতিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সে কারণে আমাদের গণহত্যাকেও স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাই।
আলোচকের বক্তব্যে আরেক শহীদ সন্তান এবং প্রজন্ম একাত্তরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার জন্য খুবই কষ্টের। এই দিনে ৫৬ বর্গমাইলের এই দেশটির জন্য প্রথমে হারিয়েছি আমার বাবাকে। পরে মাসহ আমার তিন ভাইকে। বাবাকে ২৫ মার্চে হত্যা করা হয়, একই সঙ্গে সেদিন মাকেও বেয়োনেট দিয়ে আঘাত করা হয়। কিন্তু মা তখন মরেননি, তিনি বেঁচে ছিলেন। আর যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা বুঝতে পেরেছিল যে, তিনি বেঁচে আছেন তখন তাঁকে জীবন্ত গর্তের মধ্য পুঁতে ফেলা হয়েছে।’
বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমানে মানবেতর জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, ভিক্ষা করছেন । তাদের সম্মান না করা হলে নতুন প্রজন্মও তাদের সম্মান করতে শিখবে না। মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের ৯৫ শতাংশ গ্রামের মানুষের অর্জন রয়েছে। আজকাল তাদের অর্জন আর ত্যাগ পাঁচ শতাংশের কাছে উত্সব হয়ে গেছে।’
