বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ মাইনোরেটি ওয়াচের নেতারা বুধবার হবিগঞ্জের মাধবপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো পরিদর্শন করেছেন।
মাধবপুর বাজার কালী মন্দির প্রাঙ্গণে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে পৌর মেয়র হিরেন্দ্র লাল সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত বলেছেন, ‘সরকারের ভিতর ও বাইরে থেকে সাম্প্রদায়িকতাকে যারা উস্কে দেয় তারা দেশ ও জনগণের শক্র। মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা মিলেমিশে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়তে চাই। বাংলাদেশে সম অধিকার অর্জন করতে চাই। বাংলাদেশের ভবিষ্যত অগ্রযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয় সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু বাড়িতে ও মন্দিরে হামলার সময় মুসলমান ভাইয়েরা এগিয়ে এসে রক্ষা করেছেন এবং আশ্রয় দিয়েছেন। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে এটি হল বাংলাদেশের আত্মা। এটিই হল মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা। হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে হাজার বছরের সম্প্রীতি রয়েছে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, জঙ্গিবাদ বিরোধী কমিটির সদস্য সচিব নুর মোহাম্মদ তালুকদার, নাগরিক কমিটির সদস্য ডা. অশিত বরন রায়, পংকজ ভট্টাচার্য, খুশি কবির, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী, কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব দে, মহিলা নেত্রী শ্রীমতি জয়ন্তি রায়, প্রিয়া সাহা, পদ্ধাবতি দেবী ও হবিগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাড. পূন্যব্রত চৌধুরী ও জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান-ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাড. অহীন্দ্র দত্ত চৌধুরী প্রমুখ।
এ সময় স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাড. সুলতানা কামাল বলেন, ‘মন্দির ও হিন্দুদের উপর আঘাত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর আঘাত। মুক্তিযুদ্ধে স্বজন হারিয়েছি, অত্যাচারিত হয়েছি। সহজে আমরা দেশকে অপশক্তির হাতে ছেড়ে দিব না। সাম্প্রদায়িকতাকে প্রতিরোধ করে অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযোদ্ধের চেতনা গড়ে তুলব।’
পরে নাগরিক কমিটি ও হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা নাসিরনগরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশ মাইনোরেটি ওয়াচের সভাপতি অ্যাড. রবীন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে একটি টিম ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো পৃথকভাবে পরিদর্শন করেন।
খানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোকতাদির হোসেন জানান, তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে জড়িতদেরকে গ্রেফতার করা হবে।
উল্লেখ্য, মাধবপুর উপজেলার হরিনবেড় গ্রামের ঘটনার রেশ ধরে মাধবপুর ও ঝুলন মন্দির, কালী মন্দির, ঘিলাতলী আখড়া মন্দির, হবিগশ্যামা মন্দির, বুল্লা বাজার মন্দির ও খিলগাঁও মন্দিরে দুষ্কৃতিকারীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনায় মাধবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আড়াই শ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
