গাংনী উপজেলার অন্তর্গত সীমান্তবর্তী কাজীপুর কলেজ অবস্থিত। সেখানে নিয়মিত পরীক্ষার্থী থাকলেও কলেজে গেলে পাওয়া যায় না শিক্ষার্থীদের দেখা। কলেজটিতে সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না নিয়ম। কখন কলেজ খোলা হয়, কখন বন্ধ হয় নির্দিষ্ট করে কেউ জানে না। কাগজে কলমে কলেজের হাজিরা খাতায় শিক্ষার্থীদের নাম থাকলেও শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রভাষকগণ শিক্ষাবোর্ডের কোন নির্দেশনা না মেনে খেয়াল খুশিমত কলেজে আসা-যাওয়া করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে কলেজের শিক্ষা পরিস্থিতি দেখতে ১২:২০ মিনিটের সময় প্রবেশ করে অধ্যক্ষ ও শিক্ষক মিলনায়তনে কাউকে দেখতে পাওয়া যায়নি। বাইরে ২ জন শিক্ষক এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিক্ষিপ্তাবস্থায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করে জানা যায়, অর্থনীতি ক্লাসে ছিলাম। বাদ বাকী কোন শিক্ষক ক্যাম্পাসে নেই। এ নিয়ে এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের মধ্যে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
কলেজের একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের মাধ্যমে জানা গেছে, কাজীপুর কলেজে এমপিও ভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ২৬ জন এবং নন এমপিও শিক্ষক রয়েছেন ৬ জন। কাগজে কলমে প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা-২১৬ জন এবং ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীর সংখ্যা-১২৬ জন। কিন্তু ক্লাসে ২৫/৩০ জনের বেশী শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। কলেজ সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে দেড় টা পর্যন্ত চলার কথা। ৩ টা থেকে ৫ টা ক্লাস হওয়ার কথা।কিন্তু প্রকৃত অর্থে ২/১ টার বেশী ক্লাস হয় না। তিনি ক্ষোভে বলেন,এই কলেজে পরীক্ষার্থী আছে শিক্ষার্থী নেই। গত বছর এই কলেজের নামে ২ শ’ ৮ জন পরীক্ষা দিয়ে ৯০ ভাগ পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের নকলের সুযোগ নিয়ে পাশ করে। তিনি আরও জানান,এলাকার বেশীরভাগ অভিভাবক বিদেশে থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা বিলাস বহুল জীবন যাপন করে।ফলে ছেলে মেয়েরা ঠিকমত কলেজে থাকতে চায় না।বেলা ১২ টার মধ্যে ২/১ টি ক্লাস করে চলে যায়।কলেজে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের গাফিলতির কারনে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন হয়নি।
এ ব্যাপারে কলেজের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মোকাদ্দেসুর রহমান জানান,আমি নিয়মিত কলেজে যায়। ক্লাস ঠিকমত হয়না এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ,একদিন অনিয়ম দেখে নিউজ না করে আর একদিন দেখে নিউজ করলে ভাল হয়।এ ছাড়া গ্রামের কলেজগুলো এভাবেই চলে।
এসব অনিয়ম অব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার সচেতনমহলের।
ইত্তেফাক/আরএ
