রায়পুরে আবারো মাছ ধরায় নেমেছে জেলেরা

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৬, ১১:৪২
মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ২ নভেম্বর বুধবার রাত ১২টার পর থেকে রায়পুর উপজেলা উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা মাছ ধরার উৎসবে মেতেছে। জেলেরা তাদের জাল নৌকা নিয়ে মেঘনা নদীতে নেমে পড়ে। 
 
রায়পুর উপজেলায় সাড়ে ৬ হাজার জেলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।
 
রায়পুরের নাইয়া পাড়া জেলে পল্লীর জেলে বিল্লাল মাঝি, আমির হোসেন মাঝি ও বিল্লাল বেপারী জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় গত টানা ২২ দিন তারা নদীতে মাছ ধরেন নি। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি ঋণ নিয়ে সংসার চালিয়েছেন। মাছ পাওয়ার আশা নিয়ে তারাসহ অন্যান্য জেলেরা নদীতে নেমে পড়েছেন।
 
রায়পুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার বলেন, টানা ২২ দিনের কর্মসূচি ২ নভেম্বর রাতে শেষ হয়েছে। এ সময় অধিদপ্তরের সহায়তা পাওয়ায় নদীতে ইলিশ শিকারে নামেনি জেলেরাও। কিন্তু জেলেরা কোন ধরনের বাধা ছাড়াই বৈধ জাল-নৌকা নিয়ে নদীতে নেমেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেরা নদীতে না যাওয়ায় অভাব-অনটনে কেটেছে তাদের এদিনগুলো।
 
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মোস্তফা বেপারী জানান, জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জেলে সংগঠন, উপকূলীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশাসনের তৎপরতার কারণে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর নদীতে প্রায় ৯৫ ভাগ মাছ ধরা কমেছে।
 
রায়পুর উপজলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি চলাকালীন সময় গ্রামগঞ্জে, হাট বাজার, মাছ ঘাটসহ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। ২২ দিনে মেঘনা নদীতে ৪২টি ভ্রাম্যমান আদালত, ৩২টি মোবাইল কোর্ট ও ২৯টি বিশেষে অভিচান পরিচালনা করা হয়েছে। কোন জেলে নদীতে না নামায় কাউকে আটক করা সম্ভব নয়নি। তবে নদীর পাড় থেকে বেশ কিছু জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এতে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর নদীতে প্রায় অর্ধেক মাছ ধরা কমেছে। 
 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই