সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ অবিলম্বে খুলে দেয়ার নির্দেশ

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৬, ১৩:২১
 
বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে আদালত। সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ এই কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়। একই সঙ্গে সিটিসেলের স্থগিত তরঙ্গ বরাদ্দ অবিলম্বে পুনঃবহালের জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছে। 
 
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন  আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। 
 
আদেশে সিটিসেলকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে ১০০ কোটি টাকা বিটিআরসিকে প্রদান করতে বলা হয়েছে। যদি এ সময়ের মধ্যে তারা টাকা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে বিটিআরসি পুনরায় তরঙ্গ বরাদ্দ স্থগিত করে দিতে বলা হয়েছে। 
 
এছাড়া বিটিআরসি ও সিটিসেলের দাবিকৃত টাকার অঙ্ক নিয়ে যে বিরোধ দেখা দিয়েছে তা নিস্পত্তির জন্য বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করে দেয়া হয়েছে। ওই কমিটি দাবিকৃত টাকা নিয়ে যে বিরোধ দেখা দিয়েছে তা নিস্পত্তি করবে। 
 
আজ আদালতে সিটিসেলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। বিটিআরসির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
 
বিটিআরসি দাবি করেছে, সিটিসেলের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। যদিও এই পাওনা নিয়ে পরস্পর বিরোধী দাবি রয়েছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে আপিল বিভাগ ছয় সপ্তাহের মধ্যে পাওনা টাকার তিন ভাগের দুই ভাগ এবং অবশিষ্ট টাকা দুই মাসের মধ্যে জমা দেয়ার জন্য সিটিসেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল। সিটিসেল তাদের হিসাবমত বকেয়া টাকার মধ্যে ১৩০ কোটি বিটিআরসিকে এবং ১৪ কোটি টাকা এনবিআরের খাতে জমা করে। কিন্তু বিটিআরসি দাবি করে প্রথম কিস্তির টাকার অঙ্ক ৩১৮ কোটি টাকা। টাকার অঙ্ক নিয়ে দুই পক্ষের এই মতবিরোধের মধ্যে বিটিআরসি সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ স্থগিত করে দেয়। এ পরিস্থিতিতে তরঙ্গ বরাদ্দ ফিরে পেতে সিটিসেল আপিল বিভাগে ওই আবেদন করে।
 
 
ইত্তেফাক/কেকে