গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরছাড়া কোটালীপাড়ার ভেন্নাবাড়ি গ্রামের শতাধিক পরিবার

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৬, ১৬:১৮
 
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পুলিশের ভয়ে বাড়ি ছাড়া ভেন্নাবাড়ি গ্রামের শতাধিক পরিবারের লোকজন। গ্রেফতার এড়াতে তারা কেউ রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না। পুলিশের দায়ের করা মামলায় নারী-পুরুষ কেউ বাদ পড়েনি। এ অবস্থা থেকে রেহাই পেতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
 
জানা গেছে, বিগত ১৪ আগস্ট ভোর রাতে কোটালীপাড়ার শেখ হাসিনা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সুপ্রিয়া গাইনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়। অশোক বল্লভ নামে এক যুবকের সাথে সুপ্রিয়া গাইনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ ওঠে অশোক ও তার লোকজন মিলে সুপ্রিয়াকে ধর্ষণ করে হত্যা করে গাছে লাশ ঝুলিয়ে রাখে।
 
এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা নয়ন গাইন ছয়জনকে আসামি করে কোটালীপাড়া থানায় মামলা করেন। বিপত্তি বাঁধে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাবার পর। এতে বলা হয়, সুপ্রিয়ার মৃত্যু হত্যাকাণ্ড নয়, গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা।
 
ওই রিপোর্ট অনুযায়ী গত ২৬ অক্টোবর কোটালীপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তফিজুর রহমান এবং কোটালীপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তানজীদ আহমেদ লাশ তুলতে যান। লাশ তোলার সময় মৃত্যু নিয়ে পুলিশ পরিদর্শকের নানা মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সেখানে অবস্থানকারী সুপ্রিয়ার আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে নানা ভাবে নাজেহাল করেন। যদিও পুলিশ কর্মকর্তা মারধরের শিকার হয়েছেন বলে থানায় ফিরে এসে মামলা করেছেন।
 
ভেন্নাবাড়ি গ্রামের মধু ঢালী, উষারানী গাইন, প্রমিলা গাইন, চিন্ময় রায়, লক্ষীকান্ত গাইন জানান, এ মামলায় বাদ পড়েনি স্কুল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ কেউই। আর এ মামলায় পুলিশ যে কাউকে আটক করে মামলার আসামী করতে পারে। এ ভয়ে গ্রাম ছাড়া সব পুরুষ। এমনকি অনেক নারীও গ্রাম ছাড়া হয়েছেন। অনেকে ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
 
কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ বলেছেন, যে বা যারা পুলিশের উপর হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক। কিন্তু, যেসব নারী-পুরুষ কিছুই জানে না তারা যাতে হয়রানির শিকার না হয় তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।
 
কোটালীপাড়া থানার ওসি কামরুল ফারুক বলেন, যারা ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না তদন্ত করে তাদেরকে অভিযোগ থেকে রেহাই দেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/এএম।