‘আমেরিকায় নেতা পরিবর্তন হয়, কিন্তু নীতির পরিবর্তন হয় না।’ -এ কথা সত্যি হলে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন অথবা রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে কী এসে যায় মার্কিনীদের? অথচ এই নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়েই চারদিকে যত শঙ্কা। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্প যা বলছেন তাতে তো ইমিগ্র্যান্টদের শঙ্কিত হবারই কথা।
প্রায় চার শতাব্দী আগের মার্কিন সরকার ব্যবস্থা যেখানে সারাবিশ্বে উদাহরণ সেখানে ট্রাম্পের ‘উদ্ভট’ সব প্রচারণা ভাবিয়ে তুলেছে সারা বিশ্বকে। আর এই ভাবনার মূল কারণ সামনে এসেছে জনপ্রিয়তায় দুই প্রার্থীর ‘নেক-টু-নেক’ অবস্থান। তবে নির্বাচনের আর মাত্র তিনদিন বাকী থাকলেও অধিকাংশ মার্কিনী এখনো মনে করেন, নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত হিলারি ক্লিনটনই বিজয়ী হবেন। শেষ মুহূর্তে পাল্টে যেতে পারে সব দৃশ্যপট।
মার্কিন নির্বাচন নিয়ে এর আগে কখনো এমন ‘উদ্ভট’ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত আর কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে নিয়ে এর আগে এত বিতর্ক ওঠেনি। কিন্তু এই ‘বিতর্কিত’ প্রার্থীর কাছে প্রাইমারিতে ধরাশয়ী হয়েছেন টেড ক্রুজ, মার্কো রুবিও, বেন কার্সন, ক্রিস স্ক্রিস্টিসহ ১১জন বাঘা বাঘা রিপাবলিকান। আর নির্বাচনী প্রচারে নেমে ট্রাম্পের কাছে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে সাবেক ফার্স্টলেডি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিনেটর হিলারি ক্লিনটনকে। অথচ নারী কেলেঙ্কারী, আয়কর ফাঁকিসহ বেশকিছু গুরুতর অভিযোগের মুখেও দোর্দণ্ড প্রতাপে নির্বাচনী যুদ্ধে টিকে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারে ‘স্ট্যান্টবাজি’ও অনেকসময় ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে তা প্রমাণে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যও দারুণ কাজে লেগেছে। মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে খুশী যুক্তরাষ্ট্রের অমুসলিমদের বড় একটি অংশ। আর তাদের বেশিরভাগই এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন।
ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের অবস্থান তৃতীয়। সে হিসাবে মুসলমানদের ৯৯ শতাংশ ভোট হিলারির পক্ষে রয়েছে। এছাড়া হিস্যাপানিক ও কৃষ্ণাঙ্গরাও এবার হিলারিকে ভোট দেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। হিলারির পক্ষে মুসলিম, হিসপ্যানিক ও কৃষ্ণাঙ্গদের শতভাগ সমর্থন থাকার পরও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা প্রতিদিন ধাওয়া করছে হিলারিকে।
নিউইয়র্কে সম্প্রতি বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সভা করেছেন প্রভাবশালী মার্কিন কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি। তিনি বলছেন, প্রতিটি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এবারের নির্বাচন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এবারের নির্বাচনে ইমিগ্র্যান্টবিরোধ এবং সংখ্যালঘুবিরোধী একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রয়েছেন। তাই নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য হলেও এবারের নির্বাচনে হিলারিকে ভোট দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে নিউইয়র্কের মুসলিম আমেরিকানরা হিলারিকে বিজয়ী করার জন্য মাঠে নেমেছেন। এ ব্যাপারে তারা সভা-সমাবেশ করছেন। মুসলিম আমেরিকান নেতৃবৃন্দ বলছেন, মুসলমান ইমিগ্র্যান্টদের একমাত্র আশা হচ্ছে হিলারি।
এদিকে স্থানীয় সময় শুক্রবার জুমা’র নামাজের পর নিউইয়র্কের বিভিন্ন মসজিদে হিলারিকে ভোট দেবার আহ্বান জানানো হয়। অনেকে নামাজ শেষে মুসল্লিদের মাঝে এ সংক্রান্ত লিফলেট বিলি করেন। ওই লিফলেটে মুসলিমদের স্বার্থরক্ষায় হিলারিকে ভোট দেওয়ার যুক্তি তুলে ধরা হয়। যদিও নিউইয়র্ক ডেমোক্রেটদের ঘাঁটি এবং এ রাজ্যে হিলারি জয়ী হবেন তা নিশ্চিত জেনেও মুসলমানদের মধ্যে হিলারির পক্ষে প্রচার চলছে। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই নিউইয়র্কেরই।
ইত্তেফাক/এমআই
