উদ্যোক্তা চার কন্যা

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ১৯:০৬

 

দেশের অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তাদের অবদান ক্রমবর্ধমানহারে বাড়ছে। এসএমই খাত থেকে শুরু করে সব খাতেই নারীরা এগিয়ে চলেছে। চারজন নারী উদ্যোক্তাকে নিয়ে লিখেছেন— ইফফাত ই ফারিয়া

আমি সবসময় চাই সাধ্যের মধ্যে দাম রাখতে

—যারিন রওনক সচি

কুমুদিনীর বসন

 

আমার শাড়ির প্রতি দুর্বলতা থাকায় এ নিয়ে বিজনেস করার ইচ্ছা অনেক আগে থেকেই। ২০১৭-এর জানুয়ারিতে দেশীয় শাড়ি বিক্রি দিয়ে শুরু করলেও, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পরে বিদেশ থেকে আমদানিও করেছি। আমার নিজস্ব তাঁতি আছে; তাকে আমি রঙ-নকশা বলে দিলে সেই অনুযায়ী তারা বিভিন্ন শাড়ি বানিয়ে এনে দেন। প্রথম দিকে একটু হিমশিম খেতাম; এখন ব্যাপারটা সহজ হয়ে  গেছে। আবার আমার মাধ্যমে কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, ব্যাপারটা আমার জন্য গর্বের। সামনে বৈশাখে নিজের ডিজাইনে শাড়ি আনবো। আমি সবসময় চাই- সাধ্যের মধ্যে দাম রাখতে। নিজের উপার্জনের টাকায় মাস্টার্স করছি আপাতত। পড়াশোনা শেষে ইচ্ছা আছে আরো শ্রম দিয়ে কুমুদিনীর বসনকে বড় করার।

 

পছন্দের শাড়িটি ক্রেতার হাতে তুলে দিতে পারছি

—মিরানা আফরোজ

নীলাদ্রিকা

 

আমি শখে উদ্যোক্তা এবং পেশায় ডাক্তার। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত আছি। ‘নীলাদ্রিকা’ শুরু করেছিলাম অনেকটা শখের বসেই, নিজেই আমি শাড়িপাগল মানুষ! কিন্তু কলেজে থাকা অবস্থায় হাজারটা উপলক্ষে নতুন শাড়ি পরতে ইচ্ছা করলেও দামের জন্য কিনতে পারতাম না। কাকতালীয়ভাবে এক তাঁতির সাথে পরিচয় হওয়ার পর তাঁতের শাড়ি নিয়ে খুব অল্প প্রফিটে শিক্ষার্থীদের জন্য বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এভাবেই ফেসবুককে কেন্দ্র করে নীলাদ্রিকার শুরু, এখনো একই মূল্য ও মান ধরে রাখতে পেরেছি। সাশ্রয়ী মূল্যে পছন্দের শাড়িটি ক্রেতার হাতে তুলে দিতে পারছি। ভবিষ্যতে নিজস্ব একটি দোকান করতে চাই।

 

মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ যেন দিতে পারি

—সুমাইয়া সাফিনাজ

অপরাজিতা

 

ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা করেছি ইডেন কলেজ থেকে। শিক্ষার্থী থাকাকালেই চাকরি শুরু করায় পড়া শেষ হওয়ার পর সাত বছর চাকরির অভিজ্ঞতা হয়েছে। বেশ কয়েকটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ হয়। চাকরি ছেড়ে দিয়েছি কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা আর শারীরিক অসুস্থতার জন্য। জেদ চেপে গিয়েছিল, নিজে থেকে কিছু করার। আমার ডিজাইন করা কাপড়, পছন্দ করা শাড়ি আশেপাশের সবারই দেখতাম পছন্দ হতো। সেটা থেকেই সাহসটা পাই। প্রথমে নিজের ডিজাইন করা কিছু জামা ছোট বোনকে পরিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে পেইজ ওপেন করলাম। পরে পরিচিত এক রিটেইলারের কাছ থেকে মাত্র ছয়টা শাড়ি নিয়ে শুরু। আমার ব্যবসা এখন এক বছরের, যতটুকুই হোক পুরোটাই আমার। এর থেকে বড় শান্তি আর কিছু নেই। আমি চাই, অপরাজিতা একটি পুরো লাইফস্টাইল হোক। কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ যেন দিতে পারি।

 

দেশের আমদানি ও রপ্তানিতে অংশগ্রহণ করতে চাই

—শারমিন আহমেদ

সোর্স বাই ইফফাত

 

আমার মা সেলিনা আহমেদের ব্যবসায় হাতেখড়ি সেই ২০০২ সাল থেকে। ২০১২ এর দিকে আমার তত্ত্বাবধায়নে অনলাইন ব্যবসায় অংশগ্রহন। মূলত বিদেশি শাড়ি-গয়নার আগ্রহ থেকেই পথচলা শুরু। আমি এমন কিছু করতে চাচ্ছিলাম যেখানে সব পাওয়া যাবে; শুধু শাড়ি-গয়না নয়, একটা ছেলে বা মেয়ের প্রয়োজনীয় সব কিছু যাতে খুঁজলে পাওয়া যায়। অনেক বড় ব্যবসা হয়তো না, কিন্তু সোর্স সারা বিশ্বের বাঙালি মানুষের একটা বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে এতদিনে। দেশের আমদানি ও রপ্তানিতে অংশগ্রহণ করে অনেক দূর যেতে যাই ভবিষ্যতে।