রাজশাহীর পুঠিয়ার বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল জাহিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ পাঁচটি ককটেল, চারটি জিহাদি বই, কম্পোজ করা দুই পৃষ্ঠা জিহাদি বার্তা, একটি হেলমেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে হাতের কব্জি উড়ে যাওয়া আব্দুল খালেকের গ্রামের বাড়ি চারঘাটের গোপালপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ টাইমবোমা সদৃশ বস্তুসহ পাঁচটি চাপাতি, দুইটি চাইনিজ কুড়াল এবং দুইটি পেট্রোল বোমা ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এবং চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, শনিবার রাত আটটার দিকে বোমা তৈরির সময় অসাবধানতাবশত বিস্ফোরণে হাতের দুই কব্জি উড়ে যায় খালেকের। এছাড়া তার ডান চোখও ঝলসে যায়। গুরুতর জখম হয় বুক ও মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ। রাতেই স্থানীয়রা তাকে ঘটনাস্থলে ঘিরে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে চিকিত্সাধীন রয়েছে।
তারা জানান, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল খালেকের চাচাতো ভাই লালন হোসেন কয়েক মাস আগে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই ও লিফলেটসহ চারঘাট থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। সে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে।
তারা আরো জানান, আমরা ধারণা করছি তারা জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) বা ধর্মীয় উগ্রবাদী কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য। আর জাহিদের বাড়িতে সংগঠনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। প্রয়োজনীয় বিস্ফোরকদ্রব্যও তৈরি করা হতো সেখানে। তবে অভিযানের সময় বাড়িতে কাউকেই পাওয়া যায়নি।
জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-পুঠিয়া সার্কেল) আসলাম আলী জানান, রাতে চারঘাটের গোপালপুরে আহত আবদুল খালেকের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। সেখান থেকে দুটি বোমা, পাঁচটি হাসুয়া, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি জিহাদী বই, অজ্ঞাত একটি ডিভাইস এবং টাইমবোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ি থেকে খালেকের ভাই সাদেকুল ইসলাম (৩২) ও ভাবি ইসমত আরাকে (২৫) আটক করা হয়েছে।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ঘটনাটি খুবই উদ্বেগজনক। জঙ্গিরা রাজশাহী অঞ্চলে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার জন্য সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। পুঠিয়ার বিস্ফোরণ এবং দুই উপজেলা থেকে অস্ত্র-বোমা উদ্ধারের ঘটনায় দুই থানায় পৃথক মামলা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএসএস
