>> জাহিদ হাসান দিপু
জাসিন্ডা আরডান, ২০১৭ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। বিশ্বের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ এই নারী প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর আলোচনায় আসেন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর। দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হামলা পরবর্তী সময়ে তার ভূমিকা ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায় বিশ্ববাসীর কাছে।
তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পিছনে আছেন আরেকজন জাসিন্ডা আরডান। খুব কম মানুষই জানেন ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগে ২০১৪ সালেও তিনি অকল্যান্ডের লেনওয়ে সংগীত উত্সবে সবাইকে টানা ৪৫ মিনিট বিমোহিত করে রেখেছিলেন তার নিজের সৃষ্ট সুরের মূর্ছনায়। দেশটির লেবার পার্টির নেত্রী হওয়ার আগে তিনি পেশায় ছিলেন একজন ডিজে। নিজের তৈরি সুরের মূর্ছনায় মাতিয়ে রাখতেন সবাইকে।
বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ এই প্রধানমন্ত্রীর সংগীতের প্রতি ভালোবাসা ছিল অনেক আগে থেকে। প্রায় সময় তিনি নিজের স্থানীয় সিডির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে উপস্থাপন করতেন নিজের পছন্দের সব গান আর কৌশলাদি। তবে রাজনীতিতে এই সংগীতপ্রেমীর আসার পিছনের সবচেয়ে বড় কারণ হলো দেশের শিশু দারিদ্র্য। তিনি সবসময় চাইতেন দেশ থেকে শিশু দারিদ্র্য দূর করতে। আর এই মহত্ ব্রত নিয়েই তিনি পা রাখেন রাজনীতিতে।
নিউজিল্যান্ডের একটি রক্ষণশীল পরিবারে ১৯৮০ সালে জন্ম নেন জাসিন্ডা আরডান। সমকামিতাকে সমর্থন নিজ ধর্মের পরিপন্থী হওয়ায় মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি ধর্মত্যাগ করেন। শিক্ষাজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন তিনি। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হন সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে। পরিবর্তন আনেন নিজের পোশাক-আশাকেও। ডিজের বেগি প্যান্ট-গেঞ্জি ছেড়ে আসেন ফরমাল পোশাকে।
সম্প্রতি তিনি আলোচনায় এসেছেন গত ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে জুম্মার নামাজ চলাকালে এক অস্ট্রেলিয়ান বর্ণবাদী সন্ত্রাসীর বন্দুক হামলার ঘটনার পর। এই হামলায় নিহত হয়েছেন ৫০ জন মুসলিম। ঘটনার পর জেসিন্ডা আরডান দাঁড়ান দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে। পরের শুক্রবার দেশটিতে আজান ও নামাজ সম্প্রচারিত হয় সকল গণমাধ্যমে। শুধু তাই নয়, দেশের সকল নারী এই নৃশংস ঘটনার নিন্দায় হিজাব পরার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন জেসিন্ডা নিজেই। মানবিকতার ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন দেশের সকল মুসলমানের নিরাপত্তা। এমনকি দেশের অস্ত্র আইন সংস্কারের পদক্ষেপও নেন তিনি।
হামলার পর জাসিন্ডা ওই হামলাকারীকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যায়িত করেন। এছাড়া দেশটির মুসলিম সম্পদায়ের লোকেরা যাতে নিউজিল্যান্ডকে নিরাপদ মনে করেন তার প্রায় সকল ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি হামলায় জড়িতের নাম উল্লেখ করলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হতে পারে বলে ওই হামলাকারীর নাম কখনো মুখে নেবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার পর প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডান যে ভূমিকা রেখেছেন তার প্রশংসা এখন বিশ্বজুড়ে। সেই সঙ্গে জাসিন্ডাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন স্থান থেকে। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাসিন্ডাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার জন্য চেঞ্জ.ওআরজি ও আভাজ.ওআরজি নামের দুইটি ওয়েবসাইটে হাজারো আবেদনকারী আবেদন করেছেন। কেউ বলেছেন, জাসিন্ডার এমন ভূমিকার জন্য অবশ্যই নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত। আবার কেউ বলেছেন, মুসলিম ধর্মের অনুসারী না হয়েও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মুসলমানদের জন্য যা করলেন তা মনে রাখার মতো।
