৬৪ জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটন স্থাপনার খোঁজে

হেরিটেজ ট্র্যাভেলার এলিজা

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ১৯:০৮

>> সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার

 

বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ ও পর্যটনের গুরুত্ব এবং দেশের ৬৪ জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে ভ্রমণে বের হয়েছেন বাংলাদেশি বিশ্ব পর্যটক ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক এলিজা বিনতে এলাহী। এর মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট বিভাগ শেষে এখন তিনি বরিশাল বিভাগ ভ্রমণ করছেন। গত ২২ মার্চ ভোলা থেকে শুরু করেন তার দক্ষিণাঞ্চল সফর। ঘুরবেন বিভাগের ছয়টি জেলায়। ঘুরে দেখবেন এসব জেলার ঐতিহ্যবাহী সব পুরাকীর্তি। গত শনিবার রাতে ভোলা থেকে বরিশালে আসেন এলিজা। সোমবার বিকেলে যান ঝালকাঠিতে। ২৯টি জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহের কাজ সমাপ্ত করেছেন। বরিশাল তার ভ্রমণের ৩৯তম জেলা। তিনি বরিশাল নগরের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখেন। ঘুরে দেখার পাশাপাশি লিখিত তথ্য, লোককথা, স্থিরচিত্র ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেন বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার সহকারী অধ্যাপক এলিজা। আগামী ৩১ মার্চ পটুয়াখালী জেলা ভ্রমণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বরিশাল বিভাগে তার হেরিটেজ ট্যুর।

এলিজা তার উপার্জিত অর্থে বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ এবং এগুলোর প্রতি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা এই প্রকল্পের নাম ‘কোয়েস্ট’। বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে থাকা নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সে অধ্যয়নরত এই পর্যটকের গবেষণার বিষয়ও ‘বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে হেরিটেজ ট্যুরিজমের গুরুত্ব’। বাংলাদেশ ছাড়াও তিনি এর আগে বিশ্বের ৪৬ দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমৃদ্ধ স্থান পরিভ্রমণ করেছেন। এশিয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে তার দুটি প্রকাশনা রয়েছে। এগুলো হলো ‘এলিজাস ট্রাভেল ডায়েরি’ ও ‘এলিজাস ট্রাভেল ডায়েরি-২’। এ ছাড়া ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত লিখছেন।

এই উদ্যোগ সম্পর্কে এলিজা বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। “কোয়েস্ট” প্রজেক্টের অধীনে আমি বাংলাদেশের অবহেলিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো সরেজমিনে ভ্রমণ করে লোকশ্রুতি, লিখিত দলিল, স্থিরচিত্র ও ভিডিওচিত্র সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে, যা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে শিক্ষা-গবেষণার পাশাপাশি দেশে পর্যটনশিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

৬৪টি জেলায় বৃহত্ পরিসরের কাজটি সম্পাদনের ব্যাপারে তিনি প্রশাসন, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।