নিজের বলার মতো একটি গল্প বানাতে চান?

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ১৯:০৯

>> রিয়াজ হোসাইন

 

৬৪ জেলা ও ১৭টি দেশ থেকে ৫০ হাজার তরুণ-তরুণীকে নিয়ে টানা ৯০ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা তৈরির অনলাইন কর্মশালা করেন তিনি। ইকবাল বাহার নিজে স্বপ্ন দেখেন ও তরুণদের স্বপ্ন দেখান—এটা সামাজিক দায়বদ্ধতা মনে করে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই করেন এবং প্রতিদিন নিয়ম করে ২ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন এর পিছনে। প্রায় অসম্ভব একটি স্বপ্ন আজ সারা বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ও ১৭টি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিসহ ৫০ হাজার তরুণ-তরুণীদের মাঝে ছড়িয়ে গেল। এই প্রজেক্টের নাম ‘নিজের বলার মতো একটি গল্প’।

বিরতিহীনভাবে গত ৪৫০ দিন ধরে টানা ৫টি ব্যাচের মাধ্যমে চলেছে ইকবাল বাহারের এই অনলাইন কর্মশালা। একদিনের জন্যও তার এই কর্মশালা বন্ধ ছিল না। তিনি শুধু দেখাননি, কিভাবে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হয় তা শিখিয়েছেন। তিনি বললেন, ‘৯০ দিন ধরে আমি শুধু উদ্যোক্তা হওয়ার কলাকৌশল শিখাইনি, শিখিয়েছি কিভাবে একজন ভালো মানুষ হয়ে বুক ফুলিয়ে বাঁচতে হয়, কিভাবে সমাজের জন্য ও দেশের জন্য কাজ করতে হয়।’ তার লক্ষ্য আগামী ২ বছরের মধ্যে ১০০,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা অন্তত ৩০০০ উদ্যোক্তা তৈরির মধ্য দিয়ে। ‘চাকরি করব না চাকরি দেব’ মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ তার পুরো দল।

গত বছরের ১ জানুয়ারী থেকে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থাকে ১৬৪ জন তরুণ ও তরুণীকে নিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির টানা ৯০ দিনের প্রথম ব্যাচ শেষ করেছেন। দ্বিতীয় ব্যাচ ছিল বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ও ১১টি দেশের ৬,০০০ জন তরুণ ও তরুণীকে নিয়ে। ৬৪ জেলা ও ১৫টি দেশের ১৫,০০০ জন তরুণ ও তরুণীকে নিয়ে ছিল তৃতীয় ব্যাচ এবং চতুর্থ ব্যাচ ছিল ৬৪ জেলা ও ১৭টি দেশের ৩০,০০০ তরুণ ও তরুণীকে নিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির টানা ৯০ দিন ব্যাপী কর্মশালা। বর্তমানে চলছে ৫ম ব্যাচের শেষ পর্যায়। ১৮ থেকে ৪০ বছরের যে কেউ অনলাইনে এই অনলাইন কর্মশালায় যুক্ত হতে পারেন। আগামী মাস থেকে শুরু হবে ষষ্ঠ ব্যাচ।

সাফল্যও অনেক বড়, প্রায় ৬০০ জন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য এরমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন। যারা বিজনেস বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তারা আবার শুরু করেছেন। যারা আগে শুরু করা বিজনেসে ভালো করছিলেন না, তারা এখন আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছেন এবং অনেকে ভেবেছিলেন জীবনে চাকরি করা ছাড়া তাঁকে দিয়ে আর কিছু সম্ভব নয়, তিনিও চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার কথা ভাবছেন, কেউ কেউ শুরুও করে দিয়েছেন। যারা নিজে কিছু একটা করতে চান, পরিশ্রম করতে চান, যাদের কোনো তাড়াহুড়া নেই ও নিজের জীবনটাকে বদলে চান; শুধু তাদের নিয়ে কাজ করছে ইকবাল বাহার।

তিনি বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে কাজ শেখার জন্য সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হলো আপনি একজন ভালো মানুষ। ৯০ দিনের কর্মশালাটি হচ্ছে অনলাইনে। পুরো প্রকল্পটি করা হচ্ছে ‘বিনা ফি’-তে অর্থাত্ প্রশিক্ষণার্থীদের থেকে কোনো টাকা দেওয়া লাগছে না; যেহেতু এটা আমার সামাজিক কাজের অংশ।’

ইকবাল বাহার বর্তমানে সিইও ও ডিরেক্টর হিসেবে আছেন অপটিম্যাক্স কমিউনিকেশন লি., ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে আলাদীন ডট কম, ইউ টিভি লাইভের। একইসঙ্গে ইকবাল বাহার একজন উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মেন্টর, ইন্সপিরেশনাল স্পিকার, নিউজ প্রেজেন্টার ও বিজনেস প্রোগ্রাম অ্যাংকর। তিনি চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি (ইন্টার), এম কম ও এমবিএ করেছেন। ইন্টারনেট কোম্পানিতে চাকরি দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন। একসময় একটি ইন্টারনেট কোম্পানির মালিক হন তিনি। চাকরিজীবনেও অত্যন্ত সফল ইকবাল বাহার খুব অল্প বয়সে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার হন।

মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির লোভনীয় চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে ‘চাকরি করব না, চাকরি দেব’ এই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করেন নিজের কোম্পানিতে। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন চাকরি জীবনের শুরুতেই। উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটা এত সহজ ছিল না। ছিল ব্যাপক বাধা, অনিশ্চয়তা ও হেরে যাওয়ার আশঙ্কা; কিন্তু তিনি দৃঢ়চেতা একজন স্বপ্নবাজ মানুষ।